আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুরের কাউনিয়ায় দুই ছেলের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সন্তানদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদ চোখের সামনে দেখে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার ৪ নম্বর শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু মৌজার গুলশান মোড় এলাকায় এই আবেগঘন ও শোকাচ্ছন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারি এবং আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় এক বিষাদময় নীরবতা নেমে এসেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মহির উদ্দিন। ৫০ বছর বয়সী মহির উদ্দিন ওই এলাকার মৃত সফিউতউল্লাহর ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত মহির উদ্দিনের দুই ছেলে মাইদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলামের মধ্যে পারিবারিক টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশ কিছু সময় ধরে তর্কবিতর্ক চলছিল। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ৩২ বছর বয়সী বড় ছেলে মাইদুল ইসলাম ও ২৮ বছর বয়সী ছোট ছেলে রশিদুল ইসলাম একে অপরের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
সন্তানদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও কুরুচিপূর্ণ বিবাদের দৃশ্যটি ঘটে যখন তাদের বাবা মহির উদ্দিন একটি মোটরসাইকেলে অবস্থান করছিলেন। চোখের সামনে দুই রক্তের সম্পর্কের ভাইকে এভাবে বিবাদে জড়াতে দেখে তিনি তীব্র মানসিক মানসিক চাপে পড়ে যান এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ মোটরসাইকেল থেকে মাটিতে পড়ে গিয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যান।
ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কাউনিয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে তিনি আর বেঁচে নেই।
পারিবারিক সূত্রে আবেগভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানা গেছে, নিহত মহির উদ্দিন বেশ কিছু দিন ধরেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি ইতিপূর্বে অন্তত দুই বার মারাত্মক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত হৃদযন্ত্রে রিং পরানোর জরুরি পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার হওয়ায় অর্থাভাবে তার সেই মহার্ঘ চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পারিবারিক দারিদ্র্য আর মানসিক উদ্বেগের মাঝেই সন্তানদের এই মারামারির দৃশ্য দেখে তিনি মারাত্মক হৃদরোগে আক্রান্ত হন বলে স্বজনরা ধারণা করছেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে কাউনিয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আকস্মিক এই প্রাণহানির পেছনে অন্য কোনো ভিন্ন কারণ রয়েছে কিনা কিংবা এর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ও তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839