আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল ও ওষুধ সংকট চলছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা। একটি কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাকে একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে সব কেন্দ্রে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র সপ্তাহে মাত্র একদিন খোলা থাকে। আবার কেন্দ্র খোলা থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় অনেক রোগীকে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য, গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবাসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে রয়েছে ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এগুলো হলো—চিলাহাটি, শালডাঙ্গা, দেবীগঞ্জ সদর, পামুলী, সুন্দরদিঘী, টেপ্রীগঞ্জ, দেবীডুবা, সোনাহার মল্লিকাদহ, দণ্ডপাল ও চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।
ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভকালীন সেবা, প্রসব-পরবর্তী পরামর্শসহ বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ১০টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বিপরীতে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রয়েছেন মাত্র চারজন। এছাড়া উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে চারজন পরিদর্শিকাকে একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শালডাঙ্গা ও পামুলী, দেবীডুবা ও চিলাহাটি, দণ্ডপাল ও সুন্দরদিঘী, চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ও সোনাহার মল্লিকাদহ, দেবীগঞ্জ সদর এবং টেপ্রীগঞ্জসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্ব ভাগ করে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শালডাঙ্গা ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতা নেহার বেগম বলেন, ওষুধের জন্য আসি, কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই ঘুরে যেতে হয়। এখানে নিয়মিত ওষুধ পাওয়া যায় না। চিলাহাটি ইউনিয়নের অলিয়ার রহমান বলেন, ক্লিনিকটা প্রায় ভূতের ঘরের মতো। সপ্তাহে একদিনও ঠিকমতো খোলে না। তাও আবার অনেক সময় ওষুধ পাওয়া যায় না। ৪০ বছর বয়সী রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতাল কবে খোলে আর কবে বন্ধ থাকে, বুঝি না বাবা। ওষুধ না পেলে আমরা কোথায় যাব? আমরা গরিব মানুষ।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও কনট্রাসেপটিভ সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনবল সংকটের কারণে সেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা এসব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। তাই দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ, নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ এবং কেন্দ্রগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী খোলা রাখার ব্যবস্থা করা জরুরি। তাদের দাবি, এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হলে ইউনিয়ন পর্যায়ের সাধারণ মানুষ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং উপজেলা সদরে গিয়ে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839