• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বীরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১৬ ইঞ্চির প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার, পাচারকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার টাকা তো দেবেই না, ধন্যবাদও দেবে না? সাবেক মন্ত্রী সামাদ আজাদ মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বীরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জালে ৩ ব্যবসায়ী পেশাদার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে ডোমারে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের মানববন্ধন বই যার বন্ধু, সে কখনো একা নয় খেলার মাঠ উন্মুক্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ডিসিকে স্মারকলিপি লালমনিরহাটের গণধর্ষণ মামলার আসামি রংপুরে গ্রেফতার দেবীগঞ্জে লাভজনক ফসলের খোঁজে চিয়া সিড চাষ শুরু করলেন কৃষক খোরশেদ আলম পঞ্চগড়ে ভুট্টা চাষে সফলতার গল্প, সার্কেল সীড কোম্পানির মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত⁠

বীরগঞ্জে ১৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা: নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

মোশারফ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার। বীরগঞ্জ (দিনাজপুর)
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সত্যকে আড়াল করে একের পর এক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। প্রতারণা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, ফজলার এবং শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখন নতুন করে নানা কৌশলে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো পরিস্থিতি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই চক্রটি নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে “সাধু” সাজার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা যে অপরাধের সাথে জড়িত, সেই সত্যটি বিভিন্নভাবে সামনে চলে আসার পরও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে দীর্ঘদিনের লুকানো এসব অন্যায় কর্মকাণ্ড এখন জনসম্মুখে আসতে শুরু করায় এলাকাবাসীর মুখে এখন একটি প্রবাদই বারবার উচ্চারিত হচ্ছে— “অতি চালাকের গলায় দড়ি”।

অভিযোগের আঙুল যাদের দিকে, তাদের পরিচয় নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। স্থানীয়দের মতে, বিশ্বাসভঙ্গ এবং নানা অনিয়মের নেপথ্যে মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তার এই কর্মকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী হিসেবে বারবার নাম আসছে ফজলার এবং জাহিদের সহোদর ভাই শফিকুল ইসলামের। শফিকুল ইসলাম শিক্ষকতা এবং ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে পর্দার আড়ালে থেকে নানা অজানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র গুঞ্জন রয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আসল চেহারা উন্মোচিত হতে শুরু করায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই চক্রটি। বিশেষ করে পল্টিবাজ হিসেবে পরিচিত শফিকুল ইসলাম এবং তার তল্পিবাহকদের আসল পরিচয় প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি সিআর মামলার মাধ্যমে। গত ২৭ এপ্রিল আদালতে দায়ের করা ২০৭ নম্বর মামলার বাদী বীরগঞ্জ উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ শাহানাজ পারভীন জানান, তার ছেলে জিসান আল আহাদ পারভেজকে কোম্পানি ভিসায় অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এই প্রতারক চক্রটি তার কাছ থেকে ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ নেওয়ার পর তারা ছেলেকে বিদেশে না পাঠিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা তালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে কোনো উপায় না পেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেছেন। তবে মামলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শফিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে শাহানাজ পারভীনকে মোবাইলে সরাসরি হুমকি প্রদান করেন। এই হুমকির ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত ৩ মে থানায় ১৬৪ নম্বর একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী এই নারী।

বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম মামলার সত্যতা এবং সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে মামলার সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে এসআই খোকন চাকি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনাটি তদন্ত করছেন। সচেতন মহলের দাবি, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা আত্মসাৎকারী এই চক্রটি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের মুখোশ পুরোপুরি উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনা হোক। আইনের সুশাসন নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমেই কেবল এলাকার এই অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।


More News Of This Category