আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে সারের মজুদ, কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি এবং নশিপুর বিএডিসি গুদামে সার চুরিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং বীরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
বিগত ২৩ আগস্ট থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিনরাত দফায় দফায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘায়িত এই অভিযানের ফলে জনি, ফয়সাল ও বাদল নামের তিন কর্মচারীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং সর্বমোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ সার বাজেয়াপ্ত করে তা কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। বাজয়াপ্তকৃত ২৩৪০ বস্তা সার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত ৩১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিসিআইসি এবং বিএডিসি নিবন্ধিত ডিলাররা বেপরোয়া হয়ে উঠে অবৈধ পন্থায় বরাদ্দ বহির্ভূত সার আমদানি করে মজুদ করছিলেন এবং সাধারণ কৃষকদের কাছে তা চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন—এমন খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এই সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মনের নেতৃত্বে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল নিয়ে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
উক্ত আদালত কবিরাজহাট এলাকার কৃষিবীজ ঘরের বিএডিসি নিবন্ধিত ডিলার সোহাগ ও দুলালের প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা ৪৫০ বস্তা সার হাতেনাতে জব্দ করে। এ সময় অনিয়মের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি জনি নামের এক কর্মচারীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে এই একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় বাদল নামের অপর কর্মচারীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা সহ ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
অনুরূপভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন গত ২৭ আগস্ট ভোগনগর ইউনিয়নের জনতা অটো রাইস মিল এবং বিসিআইসি নিবন্ধিত ডিলার নওশাদ ট্রেডার্সের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালান। এই অভিযানে তাদের গুদাম থেকে অন্যায়ভাবে মজুদ রাখা বিভিন্ন আইটেমের ১৮৯০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে জনতা অটো রাইস মিলের ম্যানেজার কাজী ফয়সালকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরবর্তীতে গত ২৯ ও ৩০ আগস্ট, শনি ও রবিবার, উদ্ধারকৃত ও বাজেয়াপ্ত হওয়া মোট ২৩৪০ বস্তা সার এলাকায় ব্যাপক মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে সরকার নির্ধারিত সঠিক মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এভাবে প্রাপ্ত সারের বিক্রয়লব্ধ মোট ৩১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য প্রদান করেন উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম।

সার্বিক বিষয়টি নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর সকালে অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপঙ্কর বর্মন, উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম এবং বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সবাই ঘটনার সত্যতা একযোগে স্বীকার করেন। সেই সঙ্গে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সার সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল করতে এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষায় এই ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839