দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আদিবাসী পল্লীর মানুষের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর এক পৈশাচিক হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার সনকা আদিবাসী খ্রিষ্টান পাড়ায় সম্প্রতি সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনায় বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, শ্মশানকালী মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুরসহ ব্যাপক তান্ডব চালায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এই ঘটনায় দায়ের করা এজাহার নামীয় ১৪ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে এই দুই আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বীরগঞ্জের ওই এলাকায় হঠাৎ করেই একদল সন্ত্রাসী তান্ডব শুরু করে। তারা স্থানীয় সনকা আদিবাসী ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টানদের বসতবাড়িতে হামলার পাশাপাশি একটি শ্মশানকালী মন্দিরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা মন্দিরের দেবমূর্তিটি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত করার পর পাশ্ববর্তী একটি ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে দেয়। এই তান্ডবের সময় সন্ত্রাসীরা পিউস মুরমু নামের একজনকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং তার বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। আচমকা এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
পৈশাচিক এই হামলার পর ভুক্তভোগীরা বীরগঞ্জ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করলে গত ১৯ এপ্রিল ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে এটি রেকর্ড করা হয়। মামলার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত করতে মাঠে নামে পুলিশ। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এজাহারভুক্ত আসামি আজাদ ও মনিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে। এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই দেবাশীষ রায় জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই বর্বরোচিত হামলার সাথে গ্রেফতারকৃতদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বাকি জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ওই আদিবাসী পল্লীতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশি তৎপরতায় স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের আশা করছেন।