পঞ্চগড়ের বিএনপির সদস্য সচিব এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) Md. Mizanur Rahman নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিএনপি নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটির থাম্বনেইলে লেখা ছিল— “চাঁদাবাজি করে গাড়ি-বাড়ি করেছে ফরহাদ হোসেন আজাদ; পঞ্চগড়ে বাড়ি ও গাড়ি কেনার টাকা কোথায় পেলো আজাদ?”
এ বিষয়ে মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমি ভিডিওটি করিনি। ওই এলাকা থেকে আমাকে ভিডিওটি পাঠানো হয়েছিল, আমি শুধু ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছি। তবে ওই ব্যক্তিকে আমি চিনি না।”
ভিডিওতে বক্তব্য দেন দেবীগঞ্জ উপজেলার ২নং শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দোমাশু রায়। তিনি ভিডিওতে বলেন,“পঞ্চগড়ে বাড়ি করে ফেলেছে ফরহাদ আজাদ, কীভাবে করেছে গিয়ে দেখেন। আমি খারাপ কিছু বলিনি। আমি হিন্দু, একটা জীবনের কাহিনী বের করা শুরু করি দিছে আজাদ। মানুষ বলে আগে জনগণের সেবা করো, তারপর ভালো হয়ে বাড়ি করবা। কিন্তু তুমি আগে সন্ত্রাসী গিরি করে বাড়ি-গাড়ি করে ফেলেছে আজাদ।
তবে পরের দিন শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত আরেকটি Md Anowar Hossain ফেসবুক আইডিতে ভিডিওতে দোমাশু রায় তার আগের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,“আমি আগের ভিডিওতে যা বলেছি, তা আমাকে জোর করে বলানো হয়েছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল এবং ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার মোহাম্মদ রাব্বি আমাকে এসব কথা জোর করে বলতে বলেন। আমি ওই বক্তব্যের জন্য সকলের কাছে ক্ষমা চাই।”
এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য হলো গরিব ও অসহায় হিন্দু জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করা। ফরহাদ হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত বক্তব্য বলিয়ে সেই ভিডিও বা বক্তব্যগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করছে জামায়াত।
বিষয়টি অস্বীকার করে শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও জামায়াতের আইন বিষয়ক সম্পাদক রাব্বি হোসেন বলেন, আমি কিছুই জানি না এবং ওই ব্যক্তিকে চিনি না। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। জামায়াত নেতা বাশার ভাইয়ের কাছ থেকে শুনেছি, ওই ব্যক্তি নাকি বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। পরে শুনেছি, বিএনপির লোকজন তাকে চাপ দিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলাতে পারে। এই দুইটি ভিডিও সম্পর্কে আমি কোনোভাবেই অবগত নই।
এ বিষয়ে দোমাশু রায়ের এলাকার তেলিপাড়া মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজহার আলী বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে দোমাশু রায়ের কাছে গিয়েছি এবং তাকে জিজ্ঞাসা করেছি—এই কাজটি আপনি কেন করেছেন?”
দোমাশু রায় জানান, তিনি পূজার চাঁদা সংগ্রহের জন্য টেপ্রীগঞ্জে গেলে জামায়াতের কিছু লোক তাকে জোরপূর্বক ওই কথাগুলো বলতে বাধ্য করে। পরে তিনি সমাজের কাছে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আজহার আলী আরও বলেন, “এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বর্তমানে কোনো গণ্ডগোল বা বিশৃঙ্খলা নেই। আমরা সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। দোমাশু রায়ের প্রতিবেশী নজরুল ও শাহিনও একই কথা বলেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।