পঞ্চগড় জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্পীড ব্রেকার এবং ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। নিয়মের তোয়াক্কা না করে ওভারলোড নিয়ে অবাধে চলাচলকারী ট্রাক এবং অবৈধভাবে বালু, ইটসহ অন্যান্য মালামাল বহনকারী ট্রাক্টরগুলোর কারণে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি এসব দুর্ঘটনায় শিশুসহ বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে, জেলার দেবীগঞ্জ পৌর শহরের চৌরাস্তা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এই চৌরাস্তায় একজন ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের মতে, এই রাস্তা দিয়ে স্কুলগামী শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করে, যা তাদের অভিভাবকদের মধ্যে সর্বদা দুশ্চিন্তার কারণ।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং দেবীগঞ্জ চৌরাস্তার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দে ওয়াহিদ আল ওয়াহিদী এই সমস্যার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক দেবীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া এশিয়ান হাইওয়ে ধরে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। যেহেতু উপজেলার কোনো বাইপাস সড়ক নেই, তাই চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই এশিয়ান হাইওয়ে। তিনি আরও বলেন, দেবীগঞ্জ চৌরাস্তার অন্য পাশে মডেল প্রাইমারি বিদ্যালয়, কেজি স্কুল, সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, এন এন সরকারি বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা ও গার্লস স্কুল থাকায় প্রতিদিন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। “সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায়ই তাজা প্রাণ ঝরে পড়লেও যেন দেখার কেউ নেই, তিনি আক্ষেপ করে বলেন। দেবীগঞ্জ চৌরাস্তা দিয়ে যে পরিমাণ ট্রাক চলাচল করে, অন্য কোনো উপজেলায় হয়তো এত ট্রাক চলাচল করে কিনা সন্দেহ আছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য আমরা অবিলম্বে ট্রাফিক পুলিশ চাই।”
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “এ বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, হাইওয়ে পুলিশের নিয়মিত টহল দল ওভারলোডবাহী যানবাহন শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। ”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পঞ্চগড় জেলা শাখার যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবুল বাশার বসুনিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করা হয়েছে। তিনি বলেন, “স্পীড ব্রেকার এবং ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত ট্রাফিক নির্দেশনার সাইনবোর্ড টানানো উচিত। ওভারলোড নিয়ে ট্রাক চলাচল করলে রাস্তা তথা দেশের ক্ষতি হয়। কাজেই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের সচেতন করাটাও জরুরি বলে মনে করছি।”
দেবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাদেকুজ্জামান হীরা এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি এবং তারা আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
এছাড়াও, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন যে প্রশাসন ইতোমধ্যে এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই স্পীড ব্রেকার বসানোর কাজ শুরু হবে।” ট্রাফিক পুলিশের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে চিঠি দিয়েছি।” তার এই বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার হয়েছে।