আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: পুলিশের শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে অপরাধ দমনে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি বলেছেন, পুলিশের মূল শক্তি শুধু ইউনিফর্ম কিংবা আইন প্রয়োগের ক্ষমতা নয়। পুলিশের প্রকৃত শক্তি হলো শৃঙ্খলা, সততা, পেশাদারিত্ব এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির নীলফামারী জেলা সফরকে ঘিরে গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা পুলিশে ছিল ব্যস্ততা। এদিন জেলা পুলিশ লাইন ড্রিলশেডে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ কল্যাণ সভা। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ দমনের কার্যক্রম নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিস্তারিত পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা।
ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ নীলফামারী জেলায় পৌঁছালে জেলা পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় ও পুলিশ লাইন্স পরিদর্শন করেন।
বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন।

সভায় পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ, বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা যেসব বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, দায়িত্ব পালনে সততা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ডিআইজি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়, অপরাধের কারণ ও প্রবণতা চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের আচরণ ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে নিষ্ঠা, সততা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। কোনো ধরনের অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অসদাচরণ যাতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ কল্যাণ সভার পাশাপাশি জেলার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও অনুষ্ঠিত হয় গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা। পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রেঞ্জ ডিআইজি।
মতবিনিময় সভায় নীলফামারীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও সাম্প্রতিক প্রবণতা, বিভিন্ন মামলার পরিসংখ্যান, তদন্তের অগ্রগতি, মামলা নিষ্পত্তির হার এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।
থানাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার সময় অপরাধের ধরন অনুযায়ী পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার, তদন্তের গুণগত মান নিশ্চিত এবং ভুক্তভোগীরা যাতে দ্রুত আইনি সেবা পান, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পুলিশের সেবামূলক কার্যক্রম নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জনগণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শোনা, দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রেঞ্জ ডিআইজির এ সফর শুধু আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। একদিকে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও কর্মপরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, অন্যদিকে জেলার অপরাধ পরিস্থিতি, থানাভিত্তিক কার্যক্রম ও তদন্ত ব্যবস্থার ওপরও নেওয়া হয়েছে বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা।
পুলিশের ভেতরের শৃঙ্খলা ও কল্যাণকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাইরে জনগণের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাই উঠে এসেছে এ সফরে।
সভা ও মতবিনিময়ে নীলফামারী জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839