• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নারী কর্মী নিয়োগের লটারি বিতর্কের জেরে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রকৌশলী স্ট্যান্ড রিলিজ রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: পুনরায় সভাপতি স্বপন চৌধুরী ও সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মানিক ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে এসআরবি-১৩’র অভিযান: ৮ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ১৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ গাইবান্ধায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গ্রেফতার গঙ্গাচড়ায় গাঁজা সেবনের সরঞ্জামসহ দুই ব্যক্তি আটক, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, এসআরবি-১৩-এর সফল অভিযান গঙ্গাচড়ায় এসআরবির বিশেষ অভিযান: ৩ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বুড়িচংয়ে ডিবি পরিচয়ে তল্লাশির সময় হাতেনাতে আটক ৩ ভুয়া পুলিশ ডোমারের কেতকীবাড়ীতে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত শুভ জন্মদিন আব্দুল মালেক: তিস্তার স্রোতের মতো একজন মানুষ

নারী কর্মী নিয়োগের লটারি বিতর্কের জেরে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রকৌশলী স্ট্যান্ড রিলিজ

রফিকুল ইসলাম সাবুল, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) রংপুর
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নারী কর্মী নিয়োগে লটারি আয়োজনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্ন তোলার মধ্যেই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. লুৎফর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
গত ১ নভেম্বর জারি করা এক আদেশে তাঁকে বগুড়ার মোকামতলায় বদলি করা হয় এবং ৩ নভেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার সময়েই তাঁর বদলির আদেশ আসায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও লটারি বিতর্কের সঙ্গে এই বদলির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চ্যানেল এস অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর নারী কর্মী নিয়োগের লটারি আয়োজনের পদ্ধতিগত অসংগতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই এই বদলির আদেশ আসে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে বগুড়ার মোকামতলায় যোগদান করেছেন।
এলজিইডির পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় গঙ্গাচড়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ১০ জন করে নারী কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এর জন্য ২৬ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত লটারির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে কর্মী নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ইউনিয়নভেদে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের অভিযোগ উঠেছে এবং কোনো ইউনিয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক আবার কোথাও পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের একত্র করে লটারি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এতে আবেদনকারীদের মধ্যে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ছয়টি ইউনিয়নে নারী কর্মী নির্বাচনের লটারি অনুষ্ঠিত হলেও এসব লটারি আয়োজনের সময় উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানাল ও উপসহকারী প্রকৌশলী লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনার সূত্রপাত ২৭ অক্টোবর গজঘণ্টা ইউনিয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক লটারি আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
এরপর ১ নভেম্বর সকালে আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদে পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের একত্র করে লটারি আয়োজনের উদ্যোগ নেন এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কিন্তু এতে আপত্তি জানান উপস্থিত ইউপি সদস্যরা এবং তাঁদের বাধার মুখে লটারি না করেই ফিরে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া, কমিউনিটি অর্ অর্গানাইজার মো. ফিরোজ মামুন এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. পারভেজ মাহমুদ।
তবে একই দিন বিকেলে কোলকোন্দ ইউনিয়নে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।
সেখানে ইউপি সদস্যদের আপত্তি উপেক্ষা করেই পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের একত্র করে লটারি সম্পন্ন করেন এলজিইডির কর্মকর্তারা।
সকালে জনপ্রতিনিধিদের বাধায় লটারি বন্ধ হলেও বিকেলে তাঁদের আপত্তি পাশ কাটিয়ে লটারি সম্পন্ন করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জনপ্রতিনিধিরা।
আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, একই প্রকল্পের নিয়োগে একেক ইউনিয়নে একেক নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোথাও ওয়ার্ডভিত্তিক লটারি আবার কোথাও পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের একসঙ্গে নিয়ে লটারি করার চেষ্টা চলছে।
এতে আবেদনকারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সব ইউনিয়নে একই নিয়মে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কর্মী নির্বাচনের দাবি জানান।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির লাল বলেন, তাঁদের ইউনিয়নে ইউপি সদস্যদের আপত্তি থাকার পরও পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের নিয়ে লটারি করা হয়েছে।
অথচ অন্য ইউনিয়নে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করায় একই প্রকল্পের নিয়োগে ইউনিয়নভেদে ভিন্ন নিয়ম কেন—এই প্রশ্ন তুলে তিনি সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে লটারি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া উপসহকারী প্রকৌশলী লুৎফর রহমানের বদলির বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্ট্যান্ড রিলিজ কেন হয়েছে তা তিনি জানেন না এবং হঠাৎ করেই আদেশ আসায় তিনি ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার জানান, উপসহকারী প্রকৌশলী লুৎফর রহমানের বদলির বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং তিনি ইতিমধ্যে বগুড়ার মোকামতলায় যোগদান করেছেন।
তবে নারী কর্মী নিয়োগের লটারি কোন নীতিমালায় পরিচালিত হয়েছে, ইউনিয়নভেদে পদ্ধতির ভিন্নতার কারণ কী এবং উপসহকারী প্রকৌশলী লুৎফর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
একই প্রকল্পে কর্মী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের অভিযোগ এবং বিতর্কের মধ্যেই দায়িত্বপ্রাপ্ত এক প্রকৌশলীর বদলির ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের অবসান চান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসঅ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ