পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানা ক্যাম্পাসের মসজিদ প্রাঙ্গণে এক নতুন রূপ দিয়েছেন বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা। দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি থানা মসজিদের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি এবং একটি মনোরম ফুলের বাগান সৃষ্টির মাধ্যমে মসজিদ এলাকাটিকে এক নান্দনিক সৌন্দর্যে সাজিয়ে তুলেছেন। সম্প্রতি মসজিদ এলাকার এই উন্নয়নমূলক কাজের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন এবং অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
দেবীগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই ওসি সোয়েল রানা থানা ক্যাম্পাসকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টাতেই থানা ক্যাম্পাসে একে একে গড়ে ওঠে ফুলবাগান, সবজি বাগান, বাঁশের তৈরি অতিরিক্ত দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা এবং অফিস কক্ষগুলোর হয় নতুন সজ্জায়ন।
মসজিদ প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের জন্য একটি শান্ত ও মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তিনি মসজিদটিকে ঘিরে সুন্দর ফুলের বাগান তৈরি করেন। এই কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তিনি দিন-রাত নিজে উপস্থিত থেকে শ্রমিক ও মিস্ত্রিদের সঙ্গে কাজ তদারকি করেছেন।
ওসি সোয়েল রানার এই আন্তরিকতা ও উদ্যোগ সম্পর্কে থানা মসজিদের ইমাম মাওলানা আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমি দীর্ঘ একচল্লিশ বছর ধরে এই মসজিদে ইমামতি করছি। কিন্তু আল্লাহর ঘর নিয়ে এত আন্তরিকভাবে চিন্তা করেন, এমন ওসিকে আমি আগে কখনও দেখিনি। তিনি নিঃসন্দেহে একজন ভালো মানুষ। তাঁর এই উত্তম উদ্যোগের জন্য আল্লাহ তাঁকে নেক হায়াত ও সৎকর্মে সফলতা দান করুন।”
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা জানান, “আমি যে কাজগুলো করেছি, তা কখনোই ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য নয়। দেবীগঞ্জবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও পুলিশ সহকর্মীদের সহযোগিতাই আমাকে এসব কাজে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী—কোথায় ও কখন দায়িত্ব পালন করতে হবে, তা সরকারি কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করেন। তবে আল্লাহর ঘর- মসজিদে কাজ করে আমি হৃদয়ের গভীরে এক অনন্য প্রশান্তি পেয়েছি।” দেবীগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি যা করে দিয়ে গেলাম, আপনারা দেবীগঞ্জবাসী সেটি সযত্নে রক্ষা করবেন। দেবীগঞ্জবাসীর ভালোবাসা আমার হৃদয়ে চিরদিন অটুট থাকবে। দেবীগঞ্জ থানায় দায়িত্ব পালনকালে আপনাদের ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি।”
ওসি সোয়েল রানার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি কেবল একটি উন্নয়ন কাজ নয়, বরং একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় মহলে বিবেচিত হচ্ছে।