পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানা ক্যাম্পাসের পরিত্যক্ত স্থানগুলোকে কাজে লাগিয়ে সবজি, ফুল ও ফলের বাগান তৈরির এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কেবল সবুজের বিপ্লবই আনেনি, বরং কলা চাষের মতো ফলনেও তিনি সফল হয়েছেন। ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে জি-৯, অগ্নিশ্বর, নেপালি মালভোগ, সাগরকলা, মায়াসাগর, চাম্পা কলা ও কাঁচকলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির কলার চাষ করা হয়েছে এবং সব জাতের ফলনই এসেছে সন্তোষজনক।
শুধু কলা নয়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা এই স্থানগুলো এখন নানা ধরনের ফুল, ফলগাছ এবং শীতকালীন সবজির সমাহারে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
দেবীগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই ওসি সোয়েল রানা তাঁর পরিবেশ-প্রেমের পরিচয় দেন। তিনি থানা ক্যাম্পাসের পরিত্যক্ত জায়গাগুলোতে বিভিন্ন জাতের ফুল, ফল ও ভেষজ ঔষধি গাছ লাগিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হন।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সোয়েল রানা জানান, প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা এবং থানার সহকর্মী ও নিজের খাদ্যচাহিদা পূরণে ফরমালিনমুক্ত সবজি-ফল উৎপাদনের লক্ষ্যেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ বাগান তৈরি করা হয়েছে। তাঁর মতে, থানা ক্যাম্পাসের বাসভবনের আশপাশের অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত স্থানগুলো কাজে লাগালে একদিকে যেমন সবজি ও ফলের চাহিদা পূরণ হয়, অন্যদিকে পরিবেশও আরও সবুজ ও স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সতর্ক থেকে গুরু দায়িত্ব পালন করা পুলিশের প্রধান কাজ। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাঁর মূল কর্তব্য অক্ষুণ্ন রেখে যে এমন সবুজায়নের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক কাজ করতে পারেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। স্থানীয় জনগণের অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, ওসির এই কর্মকাণ্ড অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও তাদের পতিত জমিকে কাজে লাগাতে অনুপ্রাণিত করবে।
ওসি সোয়েল রানার এই বাস্তবসম্মত উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সমাজের প্রতি ইতিবাচক দায়বদ্ধতা বজায় রাখা সম্ভব। তাঁর এই পদক্ষেপ পরিবেশ সুরক্ষায় এক অনন্য ভূমিকা রাখল এবং এটি স্থানীয় সকল স্তরের মানুষের জন্য অনুকরণীয়। আমাদেরও মনে রাখতে হবে, কেবল থানার ক্যাম্পাস নয়, প্রতিটি পরিত্যক্ত জায়গায় ভেষজ ঔষধি অথবা দৃষ্টিনন্দন ফুল অথবা ফলের চারা রোপণ করা আমাদের কর্তব্য। কারণ, গাছ না থাকলে মানুষও থাকবে না।