পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অভাব দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও, চিকিৎসক সংকটের কারণে তারা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। এর ফলে রোগীদের মধ্যে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, হাসপাতাল আসার পর অনেক সময় রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যান। এমনকি অনেক রোগী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। বর্তমানে মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ও ফার্মাসিস্টরা সেবা প্রদান করছেন। তবে অনেকেই অভিযোগ করছেন, “ডাক্তার নেই, কম্পাউন্ডাররা ওষুধ দিচ্ছে, কী লিখছে, আমরা জানি না, আল্লাহ জানে।”
রোগী রোকেয়া বেগম বলেন, “সকাল ৯টা থেকে এসেছি, দুপুর হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ডাক্তার একটাও পাইনি। আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না। সরকারি হাসপাতালে যদি চিকিৎসা না পাই, তাহলে কোথায় যাব?”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানান, এই হাসপাতালে ডাক্তার থাকার কথা ছিল প্রায় ৩১ জন, তবে বর্তমানে আছেন মাত্র ৬ জন। তিনি দাবি করেন, ‘আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমপক্ষে ১০ জন ডাক্তার প্রয়োজন। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হোক।’
এছাড়া, বেশ কিছু রোগী অভিযোগ করেছেন যে, ডাক্তাররা নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না এবং রোগীর চাপ থাকলেও সেবা প্রদানে গড়িমসি করছেন।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর জানান, “আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০টি বেড রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২০ জন রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। পাশের ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থান বাজার থেকে অনেক দূরে হওয়ায়, সেখানকার অনেক রোগীও আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক সংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং কিছু চিকিৎসক নিয়োগের আশ্বাসও পেয়েছি।”
এই পরিস্থিতিতে, স্থানীয়রা দ্রুত নতুন ডাক্তার নিয়োগ, তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সেবার মান উন্নত করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।