পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে উপজেলা প্রশাসন ‘প্রস্ফুটন সংঘ’ সংগঠনের বিষয়টি নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি দেবীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে অবস্থিত অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের অধীনস্থ ‘প্রস্ফুটন সংঘ’ নামে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে। একই স্থানে একটি ছোট কক্ষে “শহীদ সাজু লাইব্রেরি” স্থাপন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জুলাই মুক্তিযোদ্ধারা সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন।
শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে “Uno Debiganj Panchagarh” মোঃ মাহমুদুল হাসান তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে মত প্রকাশ করে লিখেছেন:
👉 “দেবীগঞ্জে যোগদান করি গত বছর নভেম্বরের শেষ দিকে। যোগদান করার পর দেখি এখানে কোনো পাঠাগার নাই। কোনো ডিবেটিং ক্লাব নাই। শিশু কিশোররা সময় কাটাবে এরকম কোনো স্পেস নাই। মাদকের ছড়াছড়ি। কিশোররা না পড়াশোনা করে, না কোনো কাজ করে। পরিসংখ্যানও সে কথাই বলে। ১৫- ২৫ বছর বয়সী প্রায় ৩৭% শতাংশ কোনো লেখাপড়া বা কাজ করেনা। তাদের জন্য কি করা যায় এচিন্তা থেকেই স্কিল ডেভেলপ করার জিন্য একটা ক্লাব বা কিছু একটা করবো প্লান করি।
এবিষয়ে কয়েকজন অফিসার ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে আইডিয়া শেয়ার করি। সকলেই উৎসাহ দেন। এরপর বেশ বড় করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও আগ্রহী কিশোর, সাংবাদিক Harish Roy, Nazmus Sakib Moon, কয়েকজন অফিসার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ সহ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান করা হয়। এর আগে অনেক আলোচনা, মিটিং করে এটি ক্লাব না সংঘ হবে, পরিচালিত হবে কিভাবে, কে পরিচালনা করবে, আর্থিক বিষয় কিভাবে সম্পন্ন হবে ইত্যাদি ঠিক করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে। পরিচালনা কমিটি থাকবে। তবে পরিচালিত হবে উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্বাবধানে।
প্রাথমিক ভাবে ডিবেট ক্লাবের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর লেংগুয়েজ ক্লাব এর কার্যক্রম শুরু করা হবে। এখানে ইংরেজি, জাপানিজ, এরাবিক ভাষা শেখানো হবে। ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু যোগ করা হবে।
সব আলোচনা শেষে নাম দেওয়া হয় উপজেলা প্রশাসন প্রস্ফুটন সংঘ। উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভিতরে একটি ভবনকে ( যে উদ্দেশ্যে বানানো সে উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না মর্মে জেনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলি। তারা উপজেলা পরিষদের কাজে ব্যবহার করা যাবে বলে নিশ্চিত করেন।) সংঘের জন্য ঠিক করি। একই সাথে উপজেলা প্রশাসনের পাঠাগারটি সেখানে স্থানান্তর করা হয়। নাম দেওয়া হয় জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাজুর নামে ‘ শহীদ সাজু লাইব্রেরী’।
গত ২৮ তারিখ জেলা প্রশাসক পঞ্চগড় জনাব মো: সাবেত আলী স্যার উপজেলা প্রশাসন প্রস্ফুটন সংঘ ও শহীদ সাজু লাইব্রেরী উদ্বোধন করেছেন। লাইব্রেরী ও সংঘের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রী, কিশোর- কিশোরী সকলকে এখানে যুক্ত হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। আশা করি এখান থেকেই একদিন দেশ সেরা বিতার্কিক দেখতে পারবো। প্রত্যাশা করি এখানে ভাষা শিখে বা অন্য কোনো স্কিল শিখে পাড়ি দিবে অন্য দেশে।