পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারে ভূমি অফিসের পশ্চিম পাশে হাজী মার্কেটে,জামায়াতে ইসলামীর অস্থায়ী কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত একটি শতবর্ষী আমগাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, আম গাছটি ৩ নভেম্বর কর্তন করা হয়।
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই আমগাছটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করে কেটে ফেলা হয়। তবে গাছটি সরকারি নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন, এবং কে বা কারা কাটার অনুমতি দিয়েছে- সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গাছটির গোড়া প্রায় ১৫ ফিট লম্বা এবং দুটি টুকরা ভূমি অফিসের পাশে পড়ে আছে। কাটা ডালপালা ও গাছের মূল অংশ কালিগঞ্জ মৌমারী বাজার এলাকার পরিমল নামের এক কাঠমিস্ত্রির করাতকল-এ (মিলে) মজুত অবস্থায়
দেখা যায়।
এ বিষয়ে দন্ডপাল ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, আম গাছটি মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে গাছটি কর্তন করা হয়। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমি লেবারদের মাধ্যমে গাছটি কাটাই। গাছের গোড়ার অংশ ভূমি অফিসে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং মজুরি হিসেবে গাছের উপরের অংশ লেবারদের দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, গাছটি সরকারি খাস (লীজকৃত) জমিতে ছিল, যা বর্তমানে পতিত অবস্থায় রয়েছে। প্রায় পনেরো দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বয়ং গাছটি পরিদর্শন করেছিলেন। স্থানটি দন্ডপাল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীন মাড়েয়া কমলাপুখুরী মৌজার হাজী মার্কেট এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সরকারি অর্পিত হিসেবে কীটনাশক ব্যবসায়ী মোঃ লুৎফর রহমান জায়গাটি দখলে রেখেছেন।
এ বিষয়ে কীটনাশক ব্যবসায়ী মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, সরকারি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে জায়গাটি তার দখলে রয়েছে। তবে, আম গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আশেপাশের দোকান মালিক এবং স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে দন্ডপাল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে গাছটি কর্তন করা হয়েছে। এতে আশেপাশের দোকান মালিক ও পথচারীদের অনেক ঝুঁকি কমে গেছে।
এ বিষয়ে পরিমলের করাতকলে থাকা গাছ ব্যবসায়ী বৃদ্ধ নূর ইসলাম বলেন, দন্ডপাল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে গাছটি কাটা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ভূমি অফিসের পাশে প্রায় ১৫ ফুট অংশ রেখে বাকি কাঠ মজুরির বিনিময়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।