পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সুলতানা আক্তার রত্না হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি, রত্নার প্রেমিক মহাদেব রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ৩০ জুলাই সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার দহলা খাগড়াবাড়ি মাঝপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে ২০ বছর বয়সী রত্নার মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ শনাক্ত ও উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিহত তরুণীর বাবা রবিউল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সীর তত্ত্বাবধানে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তকারী দল জানতে পারে, রত্নার সঙ্গে মহাদেব রায়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মহাদেব তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু সম্প্রতি মহাদেবের পরিবার অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক করলে রত্না তার ওপর চাপ দিতে শুরু করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে মহাদেব পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন তিনি রত্নাকে কৌশলে ওই ধানক্ষেতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মহাদেব নিজের ওড়না দিয়ে রত্নার শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
৩১ জুলাই রাতে মহাদেবকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মামলাটির পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।