পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে নদী রক্ষা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ এর ধারা ১২(ট) অনুযায়ী নদী সংরক্ষণ ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে করতোয়া নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চর সোনাপাতা লালপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় করতোয়া নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
উল্লেখযোগ্য যে, চর সোনাপাতা লালপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ২০১টি পরিবার বসবাস করছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে করতোয়া নদীর ভাঙনের ফলে এই এলাকাটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। ২০২৪ সালে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নদীতে ৭০০টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। পরবর্তীতে আরও ২,৫০০টি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর নদী ভাঙনের কারণে তাদের ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই এলাকায় বসবাস করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। দ্রুত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, ময়নামতি চর থেকে নতুন বন্ধুর এলাকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে করতোয়া নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর ফলে ব্যাপক হারে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিদর্শন কার্যক্রমের জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উপপরিচালক (গবেষণা ও পরিবীক্ষণ) মোঃ আমিনুর রহমান-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গঠন করা হয়েছে। প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন সহকারী প্রধান (জিওটেকনিক্যাল) মোঃ তৌহিদুল আজিজ এবং সহকারী প্রধান (পানি প্রকৌশল) আহমাদ শামস কাদির। তারা নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করবেন।