দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব-১৩। উদ্ধারকৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে ৬০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মঙ্গলবার ১৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে মাদকের বিস্তার রোধে র্যাবের এই তৎপরতা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
র্যাব-১৩ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল ঘোড়াঘাট থানার সিংড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত নুরপুর গ্রামে এই অভিযান চালায়। সেখানে নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইমান আলীর ছেলে মো. ইকবাল হোসেনের বসতবাড়িতে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে তার নিজ ঘর থেকে নিখুঁতভাবে লুকিয়ে রাখা ৬০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য হাতেনাতে জব্দের পর ঘটনাস্থল থেকেই ৪৩ বছর বয়সী মো. ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
আটক করার পর মো. ইকবাল হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। র্যাবের দাবি অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি দিনাজপুর সীমান্ত বা বিভিন্ন উৎস থেকে এই নিষিদ্ধ মাদক সংগ্রহ করতেন এবং পরবর্তীতে তা রংপুর বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মাদক সেবীদের হাতে পৌঁছে দিতেন। যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার এই চক্রের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও আইনবিরোধী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। ঘোড়াঘাট থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করার পর আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুরো অভিযানের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন কঠোর অবস্থান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।