আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়-২ অর্থাৎ বোদা ও দেবীগঞ্জ আসনে নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে। এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পাশাপাশি ভোটের মাঠে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছেন গণঅধিকার পরিষদের তরুণ তুর্কি ও শ্রমিক নেতা আসাদুজ্জামান নূর আসাদ। তারুণ্যের শক্তি, মেধা আর সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে তিনি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
আসাদুজ্জামান নূর আসাদ বর্তমানে শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কেবল নির্বাচনের মাঠেই নতুন নন বরং রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনীতির সক্রিয় যাত্রাপথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মোদি বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ২০২১ সালে মোদি বিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে দীর্ঘ ছয় মাস কারাভোগ করেন এই অকুতোভয় তরুণ নেতা। তবুও তিনি দমে যাননি। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি, বন্ধ পাটকল ও চিনিকল পুনরায় চালুর দাবিসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে সাধারণ মেহনতি মানুষের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। যুগপৎ আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি রাজপথে সম্মুখভাগে ছিলেন।
তরুণ এই প্রার্থী গতানুগতিক রাজনীতির ধারা ভেঙে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছেন। নিজের বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ৫৪ বছর ধরে চলে আসা প্রথাগত রাজনীতি তিনি বদলাতে চান। প্রায় ৮ কোটি শ্রমশক্তির দেশে একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে তিনি সংসদে শ্রমিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেন। পঞ্চগড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ইপিজেড স্থাপন এবং স্থানীয় চিনিকল পুনরায় চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন তরুণ, ছাত্র, যুব ও শ্রমজীবী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক পঞ্চগড় গড়ে তোলা সম্ভব। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি ট্রাক মার্কায় ভোট প্রার্থনা করে জীবন বাজি রেখে জনগণের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মোঃ সফিউল আলম বা সফিউল্লাহ সুফি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের ভিড়ে আসাদুজ্জামান নূর আসাদের মতো একজন শিক্ষিত, সাহসী ও ত্যাগী তরুণ নেতার উপস্থিতি ভোটারদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা আসাদের মাঝে আগামীর পঞ্চগড় গড়ার দক্ষ কারিগরকে খুঁজে পাচ্ছেন। ভোটাররা এখন তাদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে এই তরুণ নেতৃত্বকে বেছে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।