রংপুরের গংগাচড়ায় বৃদ্ধ সাজু মিয়া হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মোঃ তৈয়ব আলী (৩৬)–কে র্যাব-১৩ এর একটি বিশেষ অভিযানিক দল গ্রেফতার করেছে। আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পূর্বের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রমাণের উদ্দেশ্যে ভিকটিমের দেহ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে ভিকটিম সাজু মিয়ার সঙ্গে তৈয়ব আলী ও তার সহযোগীদের আর্থিক লেনদেন নিয়ে ঝগড়া ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হলেও পূর্বের বিরোধ থেকেই যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে ২০২৫ সন্ধ্যায় আসামিরা ফোনে ডেকে সাজু মিয়াকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার লাশ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে পেঁচিয়ে রেখে যায়।
পরদিন ভোররাতে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ থানার পুলিশ এলাকাটি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের ছেলে গংগাচড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–০৮/২৫৭, তারিখ–০৫/০৮/২০২৫; ধারা–৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড)।
মামলাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা বাড়ায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা তৈয়ব আলীকে ১৮ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রংপুরের গংগাচড়া থানার কুটিরঘাট ঘাঘট নদীর তীর সংলগ্ন আবুল কালাম আজাদ মিয়ার দোকানের সামনে থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৩ এর চৌকস দল।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী (মিডিয়া), অধিনায়কের পক্ষে বিপ্লব কুমার গোস্বামী।