আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জ্যোতি আক্তার নামে ৩২ বছর বয়সী এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঘিরে চরম রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় তাকে হত্যা করে ঘরের ধর্নার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুরিয়া শরীফ গ্রামের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জ্যোতি আক্তার ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জয়নাল আবেদীন মাস্টারের মেয়ে এবং শহিদুল ইসলাম লেবু মাস্টারের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।
ঘটনার দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা জ্যোতি আক্তারকে নিজ ঘরের ধর্নার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তবে এই ঘটনাকে কোনোভাবেই আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না নিহতের স্বজনরা। তাঁদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় জ্যোতির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। সেই অব্যাহত নির্যাতনের জের ধরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।
বোনের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর বোনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। এমনকি মৃত্যুর আগের দিনও ফোন করে তাঁকে মারধরের কথা জানিয়েছিলেন জ্যোতি আক্তার। বোনের কথাবার্তায় তিনি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। জাহিদুল ইসলামের জোরালো অভিযোগ, তাঁর বোনকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
পরিবারের এই কষ্টের দিনে আক্ষেপ প্রকাশ করে নিহতের চাচি মোহসেনা বলেন, বিয়ের পর থেকে জ্যোতির ওপর চলা নির্যাতনের কথা সে প্রায়ই ফোনে জানাত। দুটি সন্তান আর সংসার টিকিয়ে রাখার কথা চিন্তা করে স্বজনরা তাকে সহ্যের পরামর্শ দিতেন এবং আশা করতেন সময়ের সঙ্গে সবকিছু হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এভাবে প্রাণ হারাতে হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। তিনি এই ঘটনার আদ্যোপান্ত তদন্তের দাবি তোলেন।
পরিবারের অন্য এক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, জ্যোতি আক্তারকে নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে সবসময় একধরনের ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করত। অবস্থা এমন ছিল যে এলাকার সাধারণ মানুষও সহজে ওই বাড়িতে যাতায়াত করতে পারতেন না। তিনি পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী শহিদুল ইসলামকে এলাকায় বা তাঁর বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে নিহতের পরিবারের আনা মারাত্মক সব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য বা মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839