আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: খুলনায় ৩ এপিবিএনের অপস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স শাখার সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কার্যকর পদক্ষেপে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হারানো ৮৯টি মোবাইল ফোন এবং বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৪১ হাজার ৫২০ টাকা। শুধু প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম বা অর্থ উদ্ধারই নয়, জিডির সূত্র ধরে সফল অভিযানের মাধ্যমে এক ভিকটিমকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন বাহিনীর সদস্যরা। সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে চালানো ধারাবাহিক অভিযানের পর বুধবার এসব উদ্ধৃত মালামাল ও অর্থ প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। খোয়া যাওয়া জিনিসপত্র আর কষ্টার্জিত অর্থ ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীদের চোখে-মুখে দেখা গেছে স্বস্তি ও কৃজ্ঞতার ছাপ।

একটি মোবাইল বা কষ্টার্জিত কিছু টাকা হারিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি তৈরি করে, তা অত্যন্ত গভীরভাবে উপলব্ধি করে ৩ এপিবিএনের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি এম. এম. সালাহউদ্দীনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় এই বিশেষ ইউনিটটি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, হারানো মোবাইল উদ্ধার এবং ফেসবুক বা বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে চলা প্রতারণা চক্রকে চিহ্নিত করতে দিনরাত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ভুক্তভোগী মানুষের সাধারণ জিডিগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়েছে অত্যন্ত সুসংগঠিত ও পেশাদার নেতৃত্বের অধীনে। অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় সহ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসিন আলী এবং সহকারী পুলিশ সুপার মো. আলী নওয়াজের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন। তাদের নিরলস চেষ্টার ফলেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে হারানো মোবাইল ফোনগুলো ট্র্যাক করে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং একইভাবে বিকাশ প্রতারণার শিকার হওয়া মানুষদের অর্থ ফিরিয়ে আনার পথ সুগম হয়।
বুধবার এক আড়ম্বরপূর্ণ ও মানবিক পরিবেশে উদ্ধার হওয়া সমস্ত মোবাইল ফোন এবং সমপরিমাণ টাকা তাদের প্রকৃত মালিকদের হাতে হস্তান্তর করেন ৩ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি এম. এম. সালাহউদ্দীন। নিজের প্রিয় ও প্রয়োজনীয় ফোনটি কিংবা প্রতারকদের হাতে চলে যাওয়া টাকা আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পেয়ে উপস্থিত সকলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সময়োপযোগী ও আন্তরিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি এম. এম. সালাহউদ্দীন বলেন, জনসাধারণের ইতিবাচক সাড়া ও সর্বাত্মক সহযোগিতা পাওয়া গেলে সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় আরও বেশি ভুক্তভোগীকে দ্রুত ও কার্যকর আইনি সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে। তিনি সাধারণ মানুষকে অনলাইন লেনদেন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। একই সাথে যেকোনো ধরনের অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার অপরাধের শিকার হলে বিলম্ব না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান, যাতে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষা করা যায়।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839