• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খুলনায় ৮৯টি হারানো মোবাইল ও প্রতারণার টাকা উদ্ধার করে মালিকদের হস্তান্তর করেছে ৩ এপিবিএন ডিমলায় ‘সার কার্ড’ উদ্যোগ: অনিয়ম রোধ ও প্রকৃত কৃষক শনাক্তে নতুন পদক্ষেপ দিনাজপুরে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত, দিকনির্দেশনা দিলেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু তারাগঞ্জে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার আবাসিক হোটেলে মিলল সেই দুই মাদরাসাছাত্রী ডিবি পরিচয়ে নিজ দলের নেতাকে নির্যাতন, পদ হারালেন ছাত্রদলের দুই নেতা নওগাঁয় কাজীর মোড়ে চাকু দেখিয়ে স্বর্ণের দুল ছিনতাই, জনগণ ও পুলিশের যৌথ চেষ্টায় আটক ৩ গঙ্গাচড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর আগের দিনও নির্যাতনের অভিযোগ পরিবার গুজব প্রতিরোধ ও তথ্য যাচাইয়ে টেকনাফে তরুণদের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বেনাপোল বন্দরকে রাজনৈতিক বলয়মুক্ত করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফেরানোর ঘোষণা দিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান

আবাসিক হোটেলে মিলল সেই দুই মাদরাসাছাত্রী

সংবাদদাতা:
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া দুই কিশোরীকে অবশেষে কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারের পর তাদের অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। স্বস্তির খবর হলো, পুলিশের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

 

উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের একজন হলো চৌদ্দগ্রামের কাশিনগর এলাকার বসন্তপুর গ্রামের মহিন উদ্দিনের মেয়ে মাহিমা ইসলাম মাহি, যার বয়স ১২ বছর। অন্যজন যুগিরকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে তানিসা আক্তার, যার বয়স ১৪ বছর। এই দুই কিশোরী একে অপরের পরিচিত এবং একই এলাকার বাসিন্দা।

 

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহিমা ও তানিসা কাশিনগর এলাকার আল-আমিন মহিলা মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। তবে সময় পার হয়ে গেলেও তারা মাদরাসায় পৌঁছায়নি এবং পরবর্তীতে বাড়িতেও ফিরে আসেনি। এতে পরিবারের সদস্যদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তারা আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

 

বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান নিখোঁজ দুই কিশোরীর সন্ধানে সার্বিক কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেন। নির্দেশনার পর চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা পুলিশ ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি যৌথভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে। তারা প্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিবিড় অনুসন্ধান চালাতে থাকে।

 

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তদন্তকারী দল নিশ্চিত হয় যে, কিশোরী দুজন বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর কক্সবাজার ডিবি পুলিশের সরাসরি সহায়তায় স্থানীয় সমুদ্রসৈকত এলাকার গ্রিন প্যারাডাইজ হোটেলে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ওই হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষ থেকে দুই কিশোরীকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

উদ্ধারের পর পুলিশ তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী দুজন জানায়, পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে তারা নিজেরাই স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল এবং সরাসরি কক্সবাজারে চলে এসেছিল। এতে অন্য কোনো অপশক্তির হাত ছিল না বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।

 

পুরো উদ্ধার অভিযানের সত্যতা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডমিন) লুৎফর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে উদ্ধার করা দুই কিশোরীকে দ্রুত তাদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ