দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একই দিনে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মসূচিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। প্রশাসন যেখানে পালন করল ঐতিহ্যবাহী ‘পাক হানাদার মুক্ত দিবস’, সেখানে বড় দুটি রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন স্থানে তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন করে।

গত ৬ ডিসেম্বর, প্রশাসন সকালে বীরগঞ্জ পাক হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপঙ্কর বর্মনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর শহীদ মোহসিন আলীর কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ এবং এক আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।

অন্যদিকে, বিকেলে উপজেলা বিএনপি’র আয়োজনে বীরগঞ্জ সরকারি কলেজে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু। এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম, বিএনপি যুগ্ন সম্পাদক শওকত জুলিয়াস জুয়েল, যুবদলের সদস্য সচিব আলহাজ্ব তানভীর আহমেদ চৌধুরীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ যোগ দেন।

এদিকে, ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তাজমহল মোড়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ছাত্র, যুব ও নাগরিকদের ব্যানারে এক বিশাল পথসভার আয়োজন করা হয়। জামায়াত সেক্রেটারি মনজুরুল ইসলামের সঞ্চালনা এবং উপজেলা আমির ক্বারী আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে পথসভাটি শুরু হয়। দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের ঘোষিত এমপি প্রার্থী মতিউর রহমান এবং ঘোষিত মেয়র প্রার্থী রাশেদুন নবী বাবু সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন।

পথসভাটি শুরুর পর পরই বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি দ্রুতই এক বিশাল জনসমাবেশে পরিণত হয়। সভাস্থলে জনতার ঢল নামে। তবে, পথসভার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে যাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লা সিবগা এবং প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েম—এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা) তাঁরা কেউই সভাস্থলে উপস্থিত হতে পারেননি।
