• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ডোমারে প্রশিকার ৯০ দিনব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন ওসি হাবিবুল্লাহ বীরগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বীরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১৬ ইঞ্চির প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার, পাচারকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার টাকা তো দেবেই না, ধন্যবাদও দেবে না? সাবেক মন্ত্রী সামাদ আজাদ মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বীরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জালে ৩ ব্যবসায়ী পেশাদার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে ডোমারে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের মানববন্ধন বই যার বন্ধু, সে কখনো একা নয় খেলার মাঠ উন্মুক্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ডিসিকে স্মারকলিপি লালমনিরহাটের গণধর্ষণ মামলার আসামি রংপুরে গ্রেফতার দেবীগঞ্জে লাভজনক ফসলের খোঁজে চিয়া সিড চাষ শুরু করলেন কৃষক খোরশেদ আলম

উচ্চ ফলনশীল পাটবীজে নতুন সম্ভাবনা: মিঠাপুকুরে মাঠ দিবসে কৃষকদের জোয়ার”

রফিকুল ইসলাম সাবুল, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম), রংপুর
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত ‘সম্প্রতি অবমুক্তকৃত উচ্চ ফলনশীল পাট, কেনাফ, পাট শাক, সবজি মেস্তা জাতের বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি জনপ্রিয়করণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ দিবস’ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পাটবীজ উৎপাদনে দেশকে স্বনির্ভর করার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই গত ৫ ডিসেম্বর কসবায় এ মাঠ প্রদর্শনী আয়োজন করে পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, রংপুর।

 

উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণে ভরে ওঠা অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল উন্নত জাতের পাট ও পাটবীজ উৎপাদন প্রযুক্তি সরাসরি মাঠে প্রদর্শন। কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে এবং দেশীয় বীজ উৎপাদনে উৎসাহিত করতেই ছিল এই উদ্যোগ।

 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো: গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন,

“সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মানসম্পন্ন দেশীয় পাটবীজ দিয়ে দেশের শতভাগ চাহিদা পূরণ করা। এ জন্য উচ্চ ফলনশীল জাতগুলোর চাষাবাদ ও বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি জনপ্রিয় করা হচ্ছে।”

 

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিজেআরআই-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. নাসির উদ্দিন (জেনেটিক রিসোর্সেস ও সিড বিভাগ), কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন (কৃষিতত্ত্ব বিভাগ) এবং কৃষিবিদ ড. আবু ছালেহ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া। তারা প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল পাট শাক ও সবজি মেস্তার বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিকও তুলে ধরেন, যা কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, রংপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ড. মো: রিশাদ আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, পাটের সোনালী ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও কৃষকবান্ধব প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

 

স্থানীয় কসবা ও আশপাশের এলাকার কয়েকশো কৃষক-কৃষাণী প্রদর্শনীতে এসে প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা লাভ করেন। তারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দেশীয় পাটবীজ উৎপাদনে অংশগ্রহণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কৃষকদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে ফলন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে পাটবীজ উৎপাদনে স্বনির্ভর করা সম্ভব হবে।

 

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের মাঠভিত্তিক প্রদর্শনী পাট চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়াবে এবং টেকসই পাটবীজ উৎপাদনে সামনে বড় ভূমিকা রাখবে।


More News Of This Category