দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরিব ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সরকারি সহায়তা বিতরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঈদের আনন্দ যেন প্রতিটি দুস্থ পরিবার সমানভাবে ভাগ করে নিতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে উপজেলা প্রশাসন এক বিশেষ প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হল রুমে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূলত ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম কতটা স্বচ্ছ এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ঈদ মানেই আনন্দ, আর এই আনন্দ যাতে কেবল সামর্থ্যবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য সরকারের এই মানবিক উদ্যোগকে শতভাগ সফল করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ঈদের খুশি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তালিকায় যেন কেবলমাত্র প্রকৃত অভাবী এবং দুস্থ মানুষের নাম থাকে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কোনো অবস্থাতেই যেন একজন হতদরিদ্র মানুষও এই অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
সভায় মাঠ পর্যায়ে সঠিক তদারকি এবং খাঁটি উপকারভোগী নির্বাচনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। সুষ্ঠু বিতরণের স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সভায় জানানো হয়, বিতরণের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারদের সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে যাতে চালের ওজনে কম দেওয়া বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। পবিত্র উৎসবের আগে সাধারণ মানুষের এই প্রাপ্তি যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার অঙ্গীকার করা হয় এই আলোচনায়।

উক্ত প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান হাবীব সরকার। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী হেলাল, মোস্তাক আহমেদ সিদ্দিকী মানিক, সত্যজিৎ রায় কার্তিক, আনিসুর রহমান আনিস এবং গোপাল চন্দ্র দেব শর্মাসহ উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিগণ। উপস্থিত সকলেই একমত পোষণ করেন যে, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারের এই সেবা পৌঁছে দিতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন এবং আসন্ন ঈদুল আজহায় বীরগঞ্জের প্রতিটি অভাবী মানুষের ঘরে চাল নিশ্চিত করে তাদের মুখে হাসি ফোটাবেন। একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিতরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই প্রস্তুতি সভার মূল লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে বলে প্রশাসন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।