• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ডোমারে প্রশিকার ৯০ দিনব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন ওসি হাবিবুল্লাহ বীরগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বীরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১৬ ইঞ্চির প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার, পাচারকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার টাকা তো দেবেই না, ধন্যবাদও দেবে না? সাবেক মন্ত্রী সামাদ আজাদ মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বীরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জালে ৩ ব্যবসায়ী পেশাদার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে ডোমারে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের মানববন্ধন বই যার বন্ধু, সে কখনো একা নয় খেলার মাঠ উন্মুক্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ডিসিকে স্মারকলিপি লালমনিরহাটের গণধর্ষণ মামলার আসামি রংপুরে গ্রেফতার দেবীগঞ্জে লাভজনক ফসলের খোঁজে চিয়া সিড চাষ শুরু করলেন কৃষক খোরশেদ আলম

অনাকাঙ্ক্ষিত মানববন্ধনের বিপরীতে বেইস ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচী ভাতগাঁও শাখার পক্ষে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ মোশাররফ হোসেন। বীরগঞ্জ, দিনাজপুর
বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫

বীরগঞ্জে এনজিও বেইসের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, ভুল বোঝাবুঝি অবসানে সংবাদ সম্মেলন

২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ প্রেসক্লাব হল রুমে একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সম্মেলনে এলাকার স্বনামধন্য এনজিও বেইস মিতালী ভাদগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো: আব্দুর রাজ্জাক গত ১২/১০/২০২৫ তারিখে বেইস ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচী ভাতগাঁও শাখার কতিপয় ঋণী সদস্য ও এলাকাবাসী কর্তৃক অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের প্রেক্ষিতে সংস্থার স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের এই সম্মেলনে স্বাগত জানিয়ে সকলের অবগতির জন্য জানানো হয়, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি এডুকেশন (বেইস) ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) কর্তৃক নিবন্ধিত।

সংস্থাটি দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় ১৯৯০ সাল হতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী উপবৃত্তি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে, যা পরে জাতীয় কর্মসূচী হিসাবে সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত হয়। এছাড়াও সংস্থাটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচী, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ও ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচী সুনামের সাথে বাস্তবায়ন করে আসছে। বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলায় মোট ৭,৪৪৪ জন ঋণী বা সুবিধাভোগী সদস্য রয়েছে।

কর্মীর আর্থিক অনিয়ম ও সংস্থার বক্তব্যা: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচীর আওতায় ভাতগাঁও শাখায় ঋণ সুপারভাইজার জান্নাতুল ফেরদৌস গত ২৬/১২/২০১৯ তারিখে যোগদান করেন। পরবর্তীতে গত ০৩/০৮/২০২৫ তারিখে তাঁকে কাহারোল শাখায় বদলী করা হলে তিনি নতুন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং সংস্থার সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি। এই সময়ে দলের সদস্যবৃন্দ তাঁর বিরুদ্ধে টাকা গ্রহণের অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, জান্নাতুল ফেরদৌস ১৭ জন সদস্যের নিকট থেকে সঞ্চয় ও কিস্তির টাকা আদায় করে পাশ বইতে উল্লেখ করলেও ২,০২,৮৫৯/- (দুই লক্ষ দুই হাজার আটশত ঊনষাট) টাকা সংস্থার হিসাব শাখায় জমা করেননি।

এছাড়াও, আরও ১২ জন সদস্যের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাদের নিকট থেকে ৫,১৮,৬৮০/- (পাঁচলক্ষ আঠারো হাজার ছয়শত আশি) টাকা গ্রহণ করেছেন কিন্তু পাশ বইয়ে উল্লেখ করেননি এবং অফিসে জমাও করেননি। এ প্রসঙ্গে সংস্থা জানায়, পাশ বইয়ে এন্ট্রি হয়েছে কিনা তা সদস্যের দেখে নিশ্চিত করার কথা থাকলেও সদস্যগণ তা দেখেননি।

নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা গ্রহণ: সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এমআরএ এর নির্দেশনা মোতাবেক সুরক্ষা সঞ্চয় স্কীম (এসএসএস) বন্ধ করে সদস্যদের অর্থ ফেরত দেওয়া হলেও, সুপারভাইজার জান্নাতুল ফেরদৌস অফিসের সাথে যোগাযোগ না করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কয়েকজনের কাছ থেকে বিশাল পরিমাণ নগদ টাকা জমা নিয়েছেন বলে মৌখিক অভিযোগ করা হয়।

এক্ষেত্রে, ০৩ জন বাহিরের ব্যক্তি এবং ০১ জন সমিতির সদস্যের কাছ থেকে মোট ৮,৫০,০০০/- (আট লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা তিনি নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এর মধ্যে, পূর্বের এসএসএস জমাকারী সদস্য জয়ন্তী ও সনেকাকে নিয়ম পরিবর্তনের কথা জানানো সত্ত্বেও তারা কর্মী জান্নাতুল ফেরদৌসের হাতে টাকা দেন। এর মধ্যে জয়ন্তী ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা এবং সনেকা ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

এছাড়াও সমিতির সদস্য নন এমন রমেন ১,০০,০০০/- টাকা ও সুসেন রায় ২,০০,০০০/- টাকা জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

সব মিলিয়ে, ঋণ সুপারভাইজার জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমান সহ মোট ২,০২,৮৫৯/- টাকা এবং প্রমান ছাড়া মোট ১৩,৬৮,৬৮০/- টাকা সহ সর্বমোট ১৫,৭১,৫৩৯/- (পনের লক্ষ একাত্তর হাজার পাঁচশত ঊনচল্লিশ) টাকার আর্থিক অনিয়ম করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্ত কমিটি গঠন: এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এবং ১২/১০/২০২৫ তারিখে মানববন্ধন ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের কারণে বেইস কর্তৃপক্ষ চরমভাবে বিব্রত বলে জানানো হয়। সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ায় ইতিমধ্যেই বেইস কর্তৃক ০৪ (চার) সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩০/১০/২০২৫ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন বেইস প্রধান কার্যালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত ঋণ সুপারভাইজার জান্নাতুল ফেরদৌসকে তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ খন্ডানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংস্থা প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।

বক্তব্যের শেষে ব্যবস্থাপক মো: আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে যাবে বলে বিশ্বাস করেন এবং মানবিক সমাজ গঠনে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন আশা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভাতগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো: আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষে বীরগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক মো: ওমর ফারুক। এসময় সঙ্গে ছিলেন অধ্যক্ষ মো: জুলফিকার আলী ভুট্টু, প্রকল্প ব্যবস্থাপক শিক্ষা বাবু গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী, আইটি প্রশিক্ষক কামরুল ইসলাম, হিসাব রক্ষক শিক্ষা সিরাজুল ইসলাম, হিসাব রক্ষক মোসা: তাজমিরা বেগম, রবিউল আলম এবং মাঠকর্মী আল আমিনসহ অন্যান্য স্টাফগণ।


More News Of This Category