• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ডোমারে ট্রাক ও মিথিলা পরিবহনের সংঘর্ষে চালকসহ দুজনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু সিরাজগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার পাগলাপীরে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন বীরগঞ্জে তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার সূচনা: ডিজিটাল সেবায় গুরুত্বারোপ গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ী ইউপিতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ পীরগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৮ অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ারি গ্রেফতার ডোমারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উদযাপন: অগ্নি নিরাপত্তার বার্তা নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজন পঞ্চগড়ে উন্নত জাতের বোরো ধানে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে আরডিআরএস মোড়ের সেই অপহরণ মামলার আসামি এবার পুলিশের জালে: পাঠানো হলো কারাগারে ডোমারে দঃ চিকনমাটি কর্ণময়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দূর্ধষ চুরি

সংবাদের মানদণ্ড: যখন গণমাধ্যম এক সুরে কথা বলে

আই জামান চমক, ঢাকা
সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫

আই জামান চমক:

গণমাধ্যম জগতে একটি বহুল প্রচলিত প্রশ্ন হলো—কোন খবরটি প্রথম পাতায় স্থান পাবে আর কোনটি চলে যাবে ভেতরের পাতায়? সংবাদের গুরুত্ব নির্ধারণ একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা সম্পাদকীয় নীতি, পাঠকের আগ্রহ, এবং ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রভাবের মতো বহুলাংশে নির্ভর করে। কিন্তু কিছু বিরল মুহূর্তে এমন ঘটনা ঘটে, যখন পৃথিবীর প্রায় সকল গণমাধ্যম, তাদের ভিন্ন মতাদর্শ বা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে, একটি নির্দিষ্ট সংবাদকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর সংবাদটি ছিল সেইসব ঐতিহাসিক মুহূর্তের এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

সংবাদের গুরুত্ব বা ‘নিউজ ভ্যালু’ সাধারণত কয়েকটি মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে: প্রভাব (Impact), সময়োপযোগিতা (Timeliness), নিকটত্ব (Proximity), সংঘাত (Conflict) এবং বিশিষ্টতা (Prominence)। লাদেনের মৃত্যুর ঘটনাটি এই পাঁচটি মানদণ্ডকেই একযোগে চরমভাবে পূর্ণ করেছিল।

প্রথমত, প্রভাব: লাদেন কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের প্রধান, যার কর্মকাণ্ড কোটি কোটি মানুষের জীবন, দেশের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিকে প্রভাবিত করেছিল। এই ধরনের প্রভাব অন্য কোনো সাধারণ সংবাদে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দ্বিতীয়ত, বিশিষ্টতা: লাদেন ছিলেন পৃথিবীর মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি। তার পরিচিতি এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, তার নাম শুনলেই মানুষ তার কাজের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারত। একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দাবি করে।

আমি মনে করি, এই ঘটনার গুরুত্বের মূল কারণ ছিল এর সংঘাত (Conflict) এবং তার সমাধান (Resolution) অংশটি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান একটি বৈশ্বিক সংঘাতের প্রধান চরিত্র যখন নিহত হন, তখন এই সমাপ্তি ঘোষণাটি একটি মহাকাব্যিক সমাপ্তির মতো কাজ করে। তাই ওয়াশিংটন থেকে টোকিও পর্যন্ত, লন্ডন থেকে দিল্লি পর্যন্ত—সকল সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেল এই সংবাদকে তাদের প্রথম পৃষ্ঠার সবচেয়ে মূল্যবান জায়গাটি দিতে বাধ্য হয়েছিল। এটি কেবল একটি খবর ছিল না, এটি ছিল বহু প্রতীক্ষিত একটি ‘বৈশ্বিক স্বস্তি’।

এই সম্মিলিত প্রচার আমাদের সাংবাদিকতার একটি গভীর সত্য স্মরণ করিয়ে দেয়: যখন মানব নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন গণমাধ্যমগুলো তাদের আঞ্চলিক বিভেদ ভুলে একটি একক বৈশ্বিক কণ্ঠস্বর তৈরি করে। লাদেনের মৃত্যু তাই সংবাদের গুরুত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক আদর্শ উদাহরণ হয়ে থাকবে, যেখানে একটি ঘটনা তার নিজস্ব প্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক তাৎপর্যের কারণে পৃথিবীর সকল মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে এবং গণমাধ্যম সেই বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করে।

-লেখক: কবি, সাংবাদিক, আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী


More News Of This Category