• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পরিত্যক্ত ডাক্তারখানার মাঠ পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক ডোমারে রুফ ক্রপ কেয়ারের কৃষক মাঠ দিবস: ধান ও হাইব্রিড ভুট্টা চাষে আধুনিক প্রযুক্তির বার্তা ডোমারের বোড়াগাড়ীতে বিদ্যুতের খুঁটি না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ তারের জঞ্জাল, আতঙ্কে শত শত পরিবার ডোমারে প্রশিকার ৯০ দিনব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন ওসি হাবিবুল্লাহ বীরগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বীরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১৬ ইঞ্চির প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার, পাচারকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার টাকা তো দেবেই না, ধন্যবাদও দেবে না? সাবেক মন্ত্রী সামাদ আজাদ মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বীরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জালে ৩ ব্যবসায়ী পেশাদার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে ডোমারে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের মানববন্ধন বই যার বন্ধু, সে কখনো একা নয়

দুখ আর কানলে যায় না

আই জামান চমক, ঢাকা
শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫

আমার আব্বার মুখে একটা গান বারবার শুনেছি—দুখ আর কানলে যায় না। এই সহজ অথচ গভীর কথাটি যেন জীবনের এক চরম সত্য। দুঃখ এলে তাকে বুকে চেপে কাঁদতে বসা অর্থহীন; বরং তাকে জয় করার জন্য কাজ করে যাওয়াই আসল।

আমার কাছে পিসির কীবোর্ডই প্রিয় সারথী। এই যান্ত্রিক বন্ধু আমাকে কখনও অভিযোগ জানায় না, বরং আমার সকল কাজের ভার নিঃশব্দে বহন করে চলে। আপনারা জানেন, কীবোর্ডে কাজ করতে অভ্যস্ত আমি। মোবাইলে সাধারণ একটি মেসেজ টাইপ করতে গেলেও হতাশ হই, কারণ তাতে সময়ও লাগে প্রচুর, আর ঠিকমতো লেখাও যায় না। গুগলের ভয়েস কীবোর্ড ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ! সামান্য একটি শব্দ উচ্চারণ করলে ভুল হয়ে অন্য শব্দ উঠে আসে। যেমন, ‘তাল’ বললে ‘বাল’ আর ‘সুমির ভাই’ বললে ‘চুদির ভাই’ উঠে আসে। প্রযুক্তির এই স্বয়ংক্রিয় ভুলগুলো অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়।

এই যে নতুন করে আমাদের পত্রিকাগুলো চালুর এক কঠিন যাত্রা, এতে আমি একেবারেই একা। তবে আমার আছে একদল প্রিয় প্রতিনিধি, যারা নিঃস্বার্থে আমাকে সংবাদ পাঠিয়ে সহযোগিতা করে চলেছেন। তাঁরা আমার ভাই, তাঁরা আমাকে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটিকে। এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আমার বড় শক্তি।

খবরের এই বিশাল চাপ সামলাতে, নিউজগুলো ঠিক সময়ে গুছিয়ে আপডেট রাখার জন্য একজনকে নিয়োগ দিয়েছিলাম। কিন্তু তার দ্বারা কাজের চেয়ে অকাজই বেশি হচ্ছিল, যা আমার মূল্যবান সময় নষ্ট করে দিচ্ছিল। এই কারণে সেই নির্ভরতা থেকে আমাকে সরে আসতে হয়েছে। সর্বোচ্চ রকমের সুযোগ দেওয়ার পরেও-এমনি ভাইয়ের মত স্নেহ দিয়েও পারলাম না।  আগে কাজগুলোর জন্য নির্ভর থাকতাম আমার মায়ের পেটের ভাই ইউশা জামান এর উপর। তার সাথেও অফিশিয়াল আনঅফিশিয়াল বিচ্ছেদ হবার পর মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলাম। অতি আবেগ ই আমার অতি দুঃখের কারন। তাই বুঝে না বুঝেও ভুল মানুষকে প্রশ্রয় দেই। কাছে  ডাকি। ভালোবাসি। ভুল ফুল দিয়ে কাটিয়ে দেই এক সংসার। ভুল জন্মের দায়ে জঞ্জালের পৃথিবীতে কাটিয়ে দেই এক জীবন। অভিযোগ করি না।

সব মিলিয়ে যখন এমন একটা সংকটের সময় পার করছি, তখনই আবার আমার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলটি আহত হলো। এই আঘাতের ফলে আঙুলটি বর্তমানে অচল। ব্যাপারটা খুবই খারাপ হলেও এর চেয়েও খারাপ হলো—এই আঙুল বাদ দিয়ে কম্পিউটারের কীবোর্ড পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। কীবোর্ডের মাধ্যমে আমার বহু কাজ হঠাৎই বন্ধ হয়ে গেল। এই চরম মুহূর্তেও আমি বিশ্বাস করি, “যা হয় ভালোর জন্য হয়।” হয়তো এই আঘাত আমাকে আরও সতর্ক করবে, আরও নতুন পথে চলতে শেখাবে। জীবনের কঠিন বাঁকে এই বিশ্বাসই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।

সবাই দোয়া করবেন।

-লেখক: কবি, সাংবাদিক, আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী


More News Of This Category