• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে আখ ক্ষেতে জুয়ার আসর থেকে ২ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ও কারাদণ্ড অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মুখে নীলফামারীতে অপসারিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১৪ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দল নয়, মানুষই আমার প্রতীক: দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী ফরিদ সরকার বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: যাত্রীর শরীরে মিলল ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণ শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৫৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার খগাখড়িবাড়ীর রাজনীতিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন এবং স্থানীয়দের মূল্যায়নের বিশ্লেষণ বীরগঞ্জে টিএমএসএস করিমপুর ফাতেমাতুজ জোহরা হাসপাতালের সৌজন্যে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রায় বেনাপোল পৌরসভায় বিএনপির উদ্যোগ নীলফামারী ও গাইবান্ধায় এসআরবি-১৩-এর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

আবৃত্তি জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: ফাতেমা সুলতানা সুমি

আই জামান চমক
বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫

শিল্প হলো মানুষের আত্মপ্রকাশের এক অনবদ্য মাধ্যম, আর আবৃত্তি হলো সেই শিল্পের এক শক্তিশালী রূপ। শব্দ যখন সুমিষ্ট কণ্ঠের মাধ্যমে প্রাণ পায়, তখন তা কেবল শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং শ্রোতার মনে এক গভীর অনুভূতির সঞ্চার করে। বাংলাদেশের আবৃত্তির জগতে এমনই এক প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল নাম ফাতেমা সুলতানা সুমি। একজন নারী হয়েও তিনি যে দৃঢ়তা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই পথে এগিয়ে চলেছেন, তা শুধু প্রশংসার যোগ্য নয়, বরং অসংখ্য মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

আবৃত্তিশিল্পে সাফল্য অর্জন সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন শব্দের সঠিক উচ্চারণ, প্রক্ষেপণ এবং কবিতার অন্তর্নিহিত ভাবকে পুরোপুরি আত্মস্থ করা। ফাতেমা সুলতানা সুমি এই তিনটি ক্ষেত্রেই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর আবৃত্তি শুনতে বসে শ্রোতা যেন কবিতার গভীরে প্রবেশ করে, প্রতিটি শব্দের নতুন অর্থ খুঁজে পায়। কিন্তু তাঁর এই সাফল্য কেবল প্রতিভা বা পরিশ্রমের ফল নয়। এর পেছনে রয়েছে তাঁর পাণ্ডিত্য এবং সাহিত্যের প্রতি গভীর ভালোবাসা।

অনেক সময় আবৃত্তি কেবল আবেগপূর্ণ পাঠ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এর একটি সুনির্দিষ্ট তাত্ত্বিক ভিত্তি রয়েছে। ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব, এবং ছন্দ প্রকরণ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ছাড়া একজন আবৃত্তিশিল্পী তার কাজে পূর্ণতা আনতে পারেন না। ফাতেমা সুলতানা সুমি এই তাত্ত্বিক দিকগুলো সম্পর্কে এতটাই ওয়াকিবহাল যে, তিনি একজন শিক্ষক ও গবেষকের ভূমিকাও পালন করেন। তাঁর নিকটজনেরা জানান, তিনি আবৃত্তি করতে গিয়ে কোনো শব্দের উচ্চারণ, বানান বা ব্যাকরণগত কোনো বিষয় নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই তার সমাধান দিয়ে দেন। এটি কেবল তাঁর প্রজ্ঞা নয়, বরং এই শিল্পের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতারও প্রমাণ।

এই সমাজে একজন নারীর জন্য নিজের পেশাগত জীবনে এতদূর এগিয়ে যাওয়া প্রায়শই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ফাতেমা সুলতানা সুমি দেখিয়ে দিয়েছেন, একাগ্রতা ও সঠিক সমর্থন থাকলে যেকোনো বাধাই অতিক্রম করা সম্ভব। তাঁর এই যাত্রায় তাঁর জীবনসঙ্গীর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন যোগ্য সহযাত্রীর সহযোগিতা তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। এই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমর্থনই তাঁকে প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করছে।

বর্তমানে ফাতেমা সুলতানা সুমির প্রকাশিত কবিতার সংখ্যা ৩০৫৫ ছাড়িয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ অর্জন। আবৃত্তির জগতে নারীদের মধ্যে লাইভে আবৃত্তি শুরু করার যে পথ তিনি উন্মোচন করেছেন, তা এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই সংখ্যা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলা সাহিত্যের প্রতি তাঁর অসীম ভালোবাসা ও অবিরত সাধনার প্রতিফলন। তাঁর আবৃত্তির গুণগত মান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা একদিন বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বিশ্বজুড়ে মোহিত করবে।

ফাতেমা সুলতানা সুমি কেবল একজন আবৃত্তিশিল্পী নন, তিনি একজন অনুপ্রেরণা। তাঁর এই অবিচল যাত্রা প্রমাণ করে যে, নিষ্ঠা, মেধা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। তাঁর কাজ বাংলা আবৃত্তিশিল্পকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাক, সেই শুভকামনা করি।

লেখক: কবি, সাংবাদিক ও আবৃত্তি শিল্পী।


এরকম আরও সংবাদ