• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: যাত্রীর শরীরে মিলল ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণ শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৫৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার খগাখড়িবাড়ীর রাজনীতিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন এবং স্থানীয়দের মূল্যায়নের বিশ্লেষণ বীরগঞ্জে টিএমএসএস করিমপুর ফাতেমাতুজ জোহরা হাসপাতালের সৌজন্যে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রায় বেনাপোল পৌরসভায় বিএনপির উদ্যোগ নীলফামারী ও গাইবান্ধায় এসআরবি-১৩-এর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বেনাপোলে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের উদ্যোগে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চেকপোস্টে চারা রোপণ দীর্ঘ সাহিত্যসাধনার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি: বাংলা একাডেমির সদস্য হলেন লিডসপ্রবাসী কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ সৈয়দ শাহনুর বীরগঞ্জে পুলিশের জোরালো অভিযানে আটক ৯ জন, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান পলাশবাড়ীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওয়ান শুটারগান ও গুলি উদ্ধার করেছে এসআরবি-১৩

খগাখড়িবাড়ীর রাজনীতিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন এবং স্থানীয়দের মূল্যায়নের বিশ্লেষণ

রাহেনা বারী আয়না, স্টাফ রিপোর্টার (ডিমলা) নীলফামারী
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৪ নং খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ। এই ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি নাম রবিউল ইসলাম লিথন। তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পথচলা রয়েছে। সময় বদলেছে, রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে, কিন্তু স্থানীয় মানুষের আলোচনায় তাঁর নাম এখনও ফিরে আসে। একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত মূল্যায়ন কোথায় ? পদে, প্রচারে, নাকি মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণ ও কাজের মধ্যে ? এই প্রশ্নটি এখন খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের একটি অংশের ভাষ্য, রবিউল ইসলাম লিথন ব্যক্তিগত জীবনে নম্র, ভদ্র, মার্জিত ও সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা ছিল সহজ ও স্বাভাবিক। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়নবাসীর বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও তাঁর সমর্থক ও স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন।

 

তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিত্ব নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। স্কুল ও কলেজ জীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্থানীয়ভাবে প্রচলিত। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ অতিক্রম করেছেন।

রাজনীতির পথ কখনোই মসৃণ নয়। নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম নয়। পূর্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ার পরও তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারেননি। তবে নির্বাচনী ফলাফল ও সে সময়কার ঘটনা প্রবাহ নিয়ে যে কোনো বক্তব্যের ক্ষেত্রে সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যই হওয়া উচিত চূড়ান্ত ভিত্তি।

 

এবারের সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও স্থানীয় মানুষের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর নাম। বাজার, চায়ের দোকান কিংবা সামাজিক আড্ডায় কেউ তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা বলছেন, কেউ তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরছেন। তবে এসবই মূলত স্থানীয় মানুষের আলোচনা ও মতামত, যার সঙ্গে সবার মত এক হবে এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে কি শুধু জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত ? নিশ্চয়ই নয়।

 

একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে প্রতিদিন মানুষের নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। রাস্তা, সেতু, পানি, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, সরকারি ভাতা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো পর্যন্ত বিস্তৃত দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তাঁর সততা, প্রশাসনিক দক্ষতা, জবাবদিহিতা, মানুষের প্রতি আচরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। রবিউল ইসলাম লিথনের ক্ষেত্রেও তাই অতীতের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাঁর সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে বাস্তব কর্মকাণ্ড, অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক।

 

জনপ্রতিনিধি হওয়া মানে শুধু একটি পদ পাওয়া নয়। এটি মানুষের আস্থা বহন করার দায়িত্ব। একজন চেয়ারম্যানের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা উন্মুক্ত, তাঁর কাছে গিয়ে একজন দরিদ্র মানুষ কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কতটা স্বচ্ছতা থাকে এবং জনগণের অভিযোগ কতটা গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হয়, এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত একজন জনপ্রতিনিধির গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হতে পারে।

 

খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ভোটারদের জন্য তাই আসন্ন নির্বাচন হতে পারে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি সুযোগ। কে কোন দলের, কার সঙ্গে কার রাজনৈতিক সম্পর্ক, কে কতটা জনপ্রিয় কিংবা কার পক্ষে কতজন কথা বলছেন, তার পাশাপাশি প্রার্থীদের অতীত কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও যাচাই করা প্রয়োজন। চায়ের আড্ডায় জনপ্রিয়তার আলোচনা থাকবে, রাজনৈতিক উত্তাপও থাকবে। কিন্তু ভোটের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত তথ্য, বিবেক ও নিজের এলাকার স্বার্থ বিবেচনা করে।

 

রবিউল ইসলাম লিথনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক উপস্থিতির একটি বিষয়। কিন্তু গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই যে, শেষ সিদ্ধান্ত জনগণের। সেই সিদ্ধান্ত যেন হয় স্বাধীন চিন্তা, যাচাই করা তথ্য এবং ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে সামনে রেখে। কারণ একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে শুধু একটি ব্যক্তি নয়, একটি ইউনিয়নের আগামী দিনের প্রশাসন, উন্নয়ন ও জনসেবার দায়িত্বও তাঁর হাতে যায়। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু ‘কে জনপ্রিয় ?’ নয়, প্রশ্ন হওয়া উচিত কে কী করেছেন, কী করতে চান এবং জনগণের কাছে কতটা জবাবদিহি করতে প্রস্তুত ?

 

খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সচেতন ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ