আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাসুদেবপুর চন্দ্র কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক আবেগঘন পরিবেশে মৃত্যু ও অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলা শেষে বিদায় নেওয়া এবং মৃত্যুবরণ করা শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেই এই সুশীল আয়োজন করা হয়। বুধবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানের হলরুমে অনুষ্ঠিত এই বিদায়ী সভায় সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুন নূর। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল সহকর্মীদের শ্রদ্ধা, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর স্মৃতির পাতা উল্টানোর এক মানবিক পরিবেশ।
আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো। এই সভায় মৃত্যুজনিত কারণে প্রয়াত সহকারী অধ্যাপক পদার্থবিজ্ঞান এবিএম শহিদুল ইসলামকে মরণোত্তর শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি অবসরজনিত কারণে দীর্ঘদিনের প্রিয় মুখ অফিস সহকারী সাহারুল ইসলাম এবং সিনিয়র সহকারী শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র রায় বিএসসিকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের এই কৃতী মানুষদের বিদায়বেলায় সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা চোখের জলে তাঁদের স্মৃতি ও অবদানকে স্মরণ করেন।

শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বিদায়ী ও প্রয়াত শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রয়াত সহকারী অধ্যাপক এবিএম শহিদুল ইসলামের পরিবারের হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী সাহারুল ইসলামের হাতে ৫০ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সহকারী শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র রায় বিএসসির হাতে ৫০ হাজার টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা হস্তান্তর করা হয়। আর্থিক সহায়তার বাইরেও তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট, জায়নামাজ ও ছাতা উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি ভালোবাসা জানাতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে নানা ধরনের উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সুধিজন ও সহকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অত্যন্ত মর্যাদা পূর্ণ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি শামীম আহমেদ প্রধান, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সরকার, সহকারী প্রধান শিক্ষক তোসাদ্দেক হোসেন দুদু, মোসলেম উদ্দিন প্রধান, মৌলভী শিক্ষক মকবুল হোসেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক মালেক বিএসসি এবং হাইস্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক নয়ন সরকার। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারী, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলেন।
বিদায়ী আলোচনা পর্বে বক্তারা তাঁদের স্মৃতিকথা তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাঁরা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে এবং শিক্ষার্থীদের মনন গঠনে দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষক ও কর্মচারীরা যে শ্রম দেন, তার কোনো বিকল্প হয় না। তাঁদের এই অনন্য অবদান প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের জন্য সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুদীর্ঘ কর্মজীবনের পর তাঁদের এভাবে সম্মাননা জানানো একটি মহতী উদ্যোগ। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, গুণী মানুষদের গুণকীর্তন করার এই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাদের সুন্দর পথ চলতে অনুপ্রাণিত করবে।
সংবর্ধনা পর্বের শেষ পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষক-কর্মচারী ও প্রয়াত শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। সম্মাননা ও নগদ সহায়তা পেয়ে তাঁরা গভীর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতি দীর্ঘদিনের গভীর ভালোবাসা, নানা স্মৃতি এবং সহকর্মীদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সুন্দর এই আয়োজন ও মূল্যায়নের জন্য অধ্যক্ষ আব্দুন নূর ও গভর্নিং বডির সভাপতি শামীম আহমেদ প্রধানসহ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839