আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: খুলনার নগরীতে একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এক অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। লবণচরা থানাধীন হরিণটানা এলাকায় অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে পরিচালিত একটি অভিযানে একটি উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল নামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে, যার দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রাতভর অভিযান পরিচালন করা হয়।
ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসি খুলনা জোন মো. শফিকুল ইসলামের সরাসরি নেতৃত্বে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মোশাররফ হোসেন সহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত আব্দুল আউয়ালকে সঙ্গে নিয়ে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে হরিণটানা আশিবিঘা আল আকসা মসজিদ গলি এলাকায় পুলিশ টিম পৌঁছে যায়। গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযান পুরো এলাকা জুড়ে সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করে থানা পুলিশ।
অভিযান চলাকালে ওই এলাকার চিহ্নিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার ইসরাফিলের বাসভবনের একটি পরিত্যক্ত দোচালা টিনের তৈরি খড়ির ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। স্থানটিতে সাজানো কাঠের গুঁড়ার বস্তার নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ। আব্দুল আউয়ালের সরাসরি নির্দেশনায় ও দেখানো স্থান থেকে সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার অভিযান শেষে সমস্ত আলামত ও আগ্নেয়াস্ত্র যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ তা জব্দ করে।
পুলিশ কর্মকর্তা ও তদন্ত সূত্রে নিশ্চিত করা গেছে, গ্রেফতারকৃত আব্দুল আউয়াল লবণচরা থানায় ইতিপূর্বে দায়ের হওয়া ২০ আগস্টের ৩০২/৩৪ ধারার একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। একই মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রিজন কারাদণ্ডে বা পুলিশি হেফাজতে থাকা অন্য এক আসামির বিচারকের কাছে প্রদত্ত ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আব্দুল আউয়ালের সক্রিয় নাম উঠে আসে। এরপর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নজরদারিতে রাখছিল।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় তদন্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ২৩ সেপ্টেম্বর আব্দুল আউয়ালকে আইনগত প্রক্রিয়ায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। থানায় নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে নিজের কাছে ও সহযোগীদের কাছে থাকা এই লুকানো অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করে। তার দেওয়া তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এসব বিদেশি পিস্তল এবং তাজা গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই পুরো ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করছে এবং প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839