• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গঙ্গাচড়ায় জমি নিয়ে বিরোধে উঠান বৈঠকে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা কক্সবাজারের পেকুয়া ও কুতুবদিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী গঙ্গাচড়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যা: স্বামীসহ ৫ জন গ্রেফতার বীরগঞ্জে ভাবকি কেএফটি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ও ট্রাইব্রেকারে হারাগাছের জয় শশুর বাড়ির ১৩ লাখ টাকার গহনা নিয়ে ভাগা ঘরজামাই অবশেষে ধরা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অতীতের আন্দোলনের তুলনা নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান পটুয়াখালীতে ইমাম-খতিরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার বাদীই মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার গঙ্গাচড়ায় ফিলিং স্টেশনে পরিমাপে ত্রুটি, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও কর্মী আটক পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের জন্য পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুল সিলেবাস থিয়েটার কার্যক্রমের শুভ সূচনা

কক্সবাজারের পেকুয়া ও কুতুবদিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সংবাদদাতা:
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বুধবার কক্সবাজার জেলার পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন বেড়িবাঁধ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ এবং কুতুবদিয়ার অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সুপার ডাইক নির্মাণের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।

 

সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রতিমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শনে যান। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের ভয়াবহ অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষায় এটি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে মেরামতের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রতিমন্ত্রী কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী রোমাইপাড়া এলাকায় পৌঁছান। সেখানে বন্যায় ভেঙে যাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে তিনি ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করেন। কুতুবদিয়ার সার্বিক সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে এই বাঁধের স্থায়ী সংস্কার করা এবং স্থানভেদে সুপার ডাইক নির্মাণের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

 

পরবর্তীতে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে প্রতিমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা ও সোনালী বাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি বাঁধগুলোর ক্ষয়ক্ষতি দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উপকূলীয় জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের স্থায়ী সংস্কার ও দ্রুত পুনর্নির্মাণে জরুরি প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের জানমাল, বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং তাদের জীবন-জীবিকা রক্ষা করার জন্য একটি টেকসই ও শক্তপোক্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় বাঁধসমূহের স্থায়ী সংস্কার ও টেকসই পুনর্নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ দ্রুত লাঘব করতে যা যা করণীয়, তার সবই জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করা হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, শুধু নামে মাত্র বা সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, বরং ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ধরনের বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সমস্ত বাঁধগুলোকে অত্যন্ত টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে কুতুবদিয়ার মতো ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক সুপার ডাইক নির্মাণের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল ও কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাকৃতিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেছেন। সেই কারিগরি মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই ইতোমধ্যে ৯৩২ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই বৃহৎ প্রকল্পের অধীনে সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ নদী ও সমুদ্র প্রতিরক্ষা কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। খুব শিগগিরই এই প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং আশা করা যাচ্ছে যে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত বাঁধের পুনর্নির্মাণ ও সামগ্রিক সংস্কার কাজ সময়মতো এবং মানসম্মতভাবে শেষ করার জন্য উপস্থিত সকল সরকারি দপ্তর, কর্মকর্তা ও স্থানীয় অংশীদারদের সমন্বিতভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দেন।

 

উক্ত পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মোঃ রুহুল আমিন এবং কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এ. টি. এম. নুরুল বশর চৌধুরী। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ সময় পরিদর্শনে অংশ নেন।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ