• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিশ্বাসের চাদরে টান: শ্বশুরবাড়ির ১৩ লাখ টাকার গহনা নিয়ে ভাগা ঘরজামাই অবশেষে ধরা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অতীতের আন্দোলনের তুলনা নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান পটুয়াখালীতে ইমাম-খতিরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার বাদীই মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার গঙ্গাচড়ায় ফিলিং স্টেশনে পরিমাপে ত্রুটি, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও কর্মী আটক পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের জন্য পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুল সিলেবাস থিয়েটার কার্যক্রমের শুভ সূচনা তথ্য পাচারের সন্দেহে ডিএমপির ৫০টি থানার রাইটারদের গণবদলি টাঙ্গাইলে সরকারি শিশু পরিবারের ৮ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকার মেধাবৃত্তি প্রদান কক্সবাজারের লিংক রোডে ১৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই মাদক কারবারি খুলনায় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলার অভিযুক্ত রিফাত পিরোজপুর থেকে গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীতে ইমাম-খতিরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার বাদীই মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার

সংবাদদাতা:
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: পটুয়াখালীতে মডেল মসজিদের ইমাম, খতিব ও খাদেমের বিরুদ্ধে আনা ১২ বছর বয়সী নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করার অপরাধে এবং আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এবার সেই মামলার বাদী ৬৩ বছর বয়সী নারী জাহানারা বেগমকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নির্দোষ মানুষদের হয়রানি করার এই ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

 

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মামলার নথি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করেন জাহানারা বেগম। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর সংশোধিত ২০০৩ এর ৯ এর ৪ এর খ এবং ৩০ ধারায় দায়ের করা ওই মামলায় তিনি দাবি করেন, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া পটুয়াখালী মডেল মসজিদে নিয়মিত আরবি পড়তে যেত। ওই বছরের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাকে মক্তবের পাশের একটি স্টোররুমে নিয়ে যান মসজিদের খাদেম সাব্বির। এরপর সেখানে উপস্থিত হয়ে মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন এবং আহমাদুল্লাহ নামের অপর এক ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং স্থানীয়ভাবে কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

 

আদালতের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, মসজিদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। নিখুঁত তথ্য বিশ্লেষণ ও তদন্তের পর পিবিআই জানায়, বাদীর বর্ণিত অপরাধ বা ঘটনার সপক্ষে বিন্দুমাত্র কোনো প্রমাণ মেলেনি। তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়, শিশুটি নিজ ইচ্ছায় মডেল মসজিদে গিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই অনুসন্ধানে প্রমাণ পায় যে বাদীর আনা ধর্ষণের পুরো দাবিটিই ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।

 

তদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বাদী জাহানারা বেগম নিজেও ঘটনার ভিন্ন একটি সত্য স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, চুরির অভিযোগে তার দুই নাতিকে মসজিদ থেকে আটকে রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরে এবং ক্ষোভের বশে তিনি এই ধর্ষণের মামলাটি করেছিলেন।

 

অন্যদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন জানান, কিছুদিন ধরে মসজিদের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছিল। স্থানীয় সচেতন মুসল্লিদের সহযোগিতায় চুরি করার সময় জাহানারা বেগমের নাতিকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটককৃত ছেলেটির বয়স কম হওয়ায় পুলিশ তার পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই কিছুদিন পর তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জঘন্য ও মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ কাল্পনিক এই মামলার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে সমাজে তীব্র সামাজিক মানহানি ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভবিষ্যতে যেন কেউ কোনো নির্দোষ মানুষের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা ও স্পর্শকাতর অভিযোগ এনে হয়রানি করতে না পারে, সে জন্য আদালতের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

 

পরবর্তীকালে পিবিআইয়ের নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উন্মোচিত হলে মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে আদালতের পক্ষ থেকে বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আদালতের জারি করা পরোয়ানা পর্যালোচনা করেই তারা মূল বাদী জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছেন। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাকে যথাযথ আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ