আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: অভাব কিংবা আর্থিক অনটন যেন কোনো অবস্থাতেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি করতে না পারে, সেই সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে সরকারি শিশু পরিবার বালিকার মেধাবী নিবাসীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে মেধাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইল সরকারি শিশু পরিবার বালিকার নিজস্ব অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে আনন্দঘন ও মানবিক পরিবেশে অদম্য এই শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহীদুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে টাঙ্গাইল সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উপতত্ত্বাবধায়ক তানিয়া আক্তার এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহ আলমসহ সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত তিনজন মেধাবী নিবাসীকে এককালীন ১২ হাজার টাকা করে মোট ৩৬ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত পাঁচজন নিবাসীকে এককালীন ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তরিত হয়।
সহায়তার চেক হাতে পেয়ে এসব মেধাভীবী নিবাসীদের মুখে ফুটে ওঠে অনাবিল আনন্দ ও গভীর স্বস্তির ছাপ। তাঁদের চোখে-মুখে ভেসে ওঠে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার এবং ভবিষ্যতে সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার এক দৃঢ় অঙ্গীকার। এই অর্থ সহায়তা তাঁদের ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনকে আরও সুগম ও সুন্দর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, আজকের এই মেধাবৃত্তি কেবল একটি আর্থিক সহায়তা নয়, এটি মূলত এসব শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের পথে একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কঠোর মেধা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের সামনে কোনো প্রতিকূলতাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করবে, নীতি ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখবে এবং নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, সরকারি শিশু পরিবারের এসব শিক্ষার্থীরা সমাজ ও দেশের জন্য এক পরম সম্পদ। তাঁদের সঠিক শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পেছনে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি মানুষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে। আজ যারা এই সহায়তা পাচ্ছে, আগামী দিনে তারাই নিজেদের সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করবে। শিক্ষার্থীদের সফলতা অর্জিত হলেই এই উদ্যোগ পুরোপুরি সার্থক হবে।
সভাপতির বক্তব্যে টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহীদুল্লাহ বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করা নয়, বরং এসব শিশুর মনে বড় হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়ে তোলা এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে পাশে থাকা। সরকারি শিশু পরিবারের সন্তানেরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েও কঠোর পরিশ্রম আর মেধার জোরে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থের অভাবে যেন তাদের পড়ালেখা থেমে না যায়, সে জন্য অধিদপ্তর আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহীদুল্লাহ আরও জানান, শিক্ষার্থীদের সবসময় পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে এবং নিজেদের মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের এই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের সম্পদে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি, ০১৭১২৯০৮০৬৮।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839