আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় বানু বেগম নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোমনাতী ইউনিয়নের উত্তর গোমনাতী ক্যাম্পের পাড় এলাকায়। আক্রান্ত গৃহবধূ বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোমনাতী ইউনিয়নের উত্তর গোমনাতী ক্যাম্পের পাড় এলাকার নুরল ইসলামের ছেলে সুরুজ আলীর সাথে একই এলাকার হেমতপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের মেয়ে বানু বেগমের বিগত ১৪ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দীর্ঘ দিন ধরে তাদের সংসার জীবন বেশ সুখে এবং শান্তিতেই চলছিল। দাম্পত্য জীবনের এই ১৪ বছরে তাদের ঘরে দুইটি সন্তানও জন্ম নেয়।
তবে কিছুদিন আগে গৃহবধূ বানু বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বানু বেগমের অভিযোগ অনুযায়ী, তার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে স্বামী সুরুজ আলী পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্বামীকে এই অনৈতিক পথ থেকে ফিরে আসতে বলেন এবং পরকীয়ায় বাধা প্রদান করেন। এর পর থেকেই তার জীবনের ওপর নেমে আসে চরম অশান্তি ও নির্যাতন। সামান্য অজুহাতেই সুরুজ আলী এবং তার পরিবারের অন্যান্য লোকজন বানু বেগমের ওপর অমানসিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে।
নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় গত রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর রাতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই দিন রাতে স্বামী সুরুজ আলীর পরকীয়ার বিষয়ে আবারও বাধা দিলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সুরুজ আলী ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করেন। নির্যাতন চলাকালে গৃহবধূর মুখে তার নিজের পরা ওড়না পেঁচিয়ে তাকে চেপে ধরা হয় এবং ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর তার আর্তচিৎকার ও খবর পেয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের এবং বানু বেগমের বাপের বাড়ির লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছান। তারা আশঙ্কাজনক ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বানু বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করান। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইটি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নিজের ও সন্তানের সুরক্ষার স্বার্থে এবং ন্যায়বিচারের আশায় বানু বেগম বাদী হয়ে তার স্বামী সুরুজ আলী এবং তার পরিবারের জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে ডোমার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ডোমার থানার তদন্ত কর্মকর্তা আজগার আলী থানায় লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন মারাত্মকভাবে নির্যাতনের শিকার এই অসহায় গৃহবধূ।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839