আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। কেবল দখলই নয়, মাঠের চারপাশ ঘিরে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা ও গরুর মল। এতে করে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মটুকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি আনিছুর রহমান মানিক এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ মটুকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সংলগ্ন দক্ষিণ মটুকপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঈদগাহ ময়দান মিলে একটি মাত্র বড় মাঠ রয়েছে। এই মাঠেই দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের খেলাধুলা করে থাকে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে মাঠটি ধীরে ধীরে দখলদারদের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা কেউ গায়ের জোরে মাঠের জায়গা দখল করে বাড়ির বারান্দা তৈরি করেছেন, আবার কেউ যত্রতত্র ফেলে রাখছেন মেশিনের ভারী যন্ত্রপাতি ও পাইপ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাঠের পাশেই বেশ কয়েকটি গরুর মলের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গোবর ও আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়, যার ফলে শ্রেণিকক্ষে বসে শিশুদের ক্লাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
দূষিত এই পরিবেশের কারণে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়তই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শিশুদের কোলাহলে মুখরিত থাকার কথা যে মাঠটির, সেটি এখন কার্যত গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে শিশুদের খেলাধুলা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা চরম আক্ষেপ নিয়ে জানিয়েছে, তাদের একমাত্র খেলার জায়গাটি এভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে তারা দ্রুত মাঠটিকে দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ মটুকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুনা লায়লা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দখলদার ও দূষণকারীদের বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা কোনো কর্ণপাত করছে না। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ মটুকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুল ইসলাম জানান, তার বিদ্যালয়ের সামনের জমিও দখল করে এরই মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। যত্রতত্র গোবর রাখার কারণে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি তীব্র দুর্গন্ধের কারণে পাঠদান ও খেলাধুলায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
সার্বিক বিষয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শফিউল বারী বুলবুল বলেন, মাঠটি মূলত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। তবে মাঠটি যারই হোক না কেন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা একান্ত প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি এখনো এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839