আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকায় জমি দখল, মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শাহিনুর বেগম ওরফে শাহিনুর সুন্দরী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এক অতর্কিত হামলায় কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন, যা স্থানীয় অধিবাসীদের মনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার দুপুরে অতর্কিত এক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শাহিনুর বেগমের সৎ ভাই-বোন এবং বোন জামাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই দ্বন্দ্বের মূল কারণ একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ, যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে দুবাইপ্রবাসী নওশের আলম সুমনের সঙ্গে। মহাদেবপুর পশ্চিমপাড়ায় স্থানীয় একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে কেনা জমি দখলের পাঁয়তারাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, মসজিদ নির্মাণের জায়গা ও প্রবাসী সুমনের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং নিয়মিত হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি কেবল পারিবারিক বা জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গত বছরের ২২ জুন পাগলাপীরের আলোয়াকুড়ি এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল নওশের আলম সুমনের ওপর সরাসরি হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ২৭ জুন রাতে এলাকা জুড়ে বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়িয়ে তাঁর বসতবাড়িতে হামলা চালানোর অপচেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে ঘরের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের চরম বিপদে ফেলার ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হলে পরবর্তীতে যৌথবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং কঠোর পদক্ষেপে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই চক্রটির বিরুদ্ধে কেবল জমি দখলের অভিযোগই নয়, বরং মাদক সংশ্লিষ্টতার খবরও উঠে এসেছে পরিবার সূত্রে। ভুক্তভোগীদের দাবি, শাহিনুর বেগমের বোনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে আজিজুলকে সিলেটের মাধবপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থাৎ ৫৯ কেজি গাঁজাসহ এলিট ফোর্স র্যাব-৯ এর সদস্যরা হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছিল।
আইনগত দিক বিবেচনায় ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, জমি সংক্রান্ত মামলায় আদালতের রায় তাদের পক্ষে এসেছে। কিন্তু আইন ও আদালতের তোয়াক্কা না করে মসজিদের জমির পাশের অংশে বেআইনিভাবে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে পুনরায় দখলের অপচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। ক্রমাগত এই হুমকি ও চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে বাধ্য হয়ে নওশের আলম সুমনের স্ত্রী রংপুর সদর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করেছেন। পাশাপাশি বিচার ও সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের আকুল আকুতি, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের জটিলতায় না গিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করা হোক। তারা চান প্রকৃত সত্য ঘটনা উদঘাটন করে অন্যায়কারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শাহিনুর বেগম, রায়হান খান এবং সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য প্রদান করা হলে তা প্রতিবেদনে নিরপেক্ষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839