নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাহাগিলী সন্ন্যাসীপাড়া (ঘাটেরপাড়) গ্রামের আকাশ রায় (২২), তার বাবা শ্যামল রায় (৪৫) এবং শ্যামলের স্ত্রী ববিতা রানী রায় (৪২)।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে। এ সময় প্রতিবাদ করায় বাদীকে মারধর করা হয়।
বাদীর ডাকচিৎকার শুনে তার বাবা-মা এগিয়ে এলে আসামিরা তার মাকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করে এবং বাবাকে মারধর করে জখম করে। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
অবস্থার অবনতি হলে আহত ব্যক্তিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৬ আগস্ট বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কাজল গীর (২৬) বাদী হয়ে ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৩।
র্যাব-১৩ জানায়, মামলা দায়েরের পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১, সিপিএসসি, পোড়াবাড়ী, গাজীপুর এবং র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারীর যৌথ দল ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ডেল্টা গার্মেন্টসের বিপরীত পাশে ডেল্টার মোড় এলাকায় আলালের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।