• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে নিখোঁজ কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, নেপথ্যে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ দুই বছরে রংপুরে ৪ জেলা প্রশাসক বদলি, ক্ষোভ-অসন্তোষ গঙ্গাচড়ায় এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয়ে কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেম ও সাড়ে ১০ লাখ টাকা প্রতারণা, ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করবে তথ্য কমিশন: তথ্য উপদেষ্টা ডোমারে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিষ প্রয়োগে কৃষকের দেড় বিঘা জমির ধান নষ্টের অভিযোগ বীরগঞ্জে ১০ লাখ টাকার ট্যাপেন্টাডলসহ নারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৪৬৪০ পিস ট্যাবলেট দেবীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠিত, সভাপতি আতিকুর ও সহ-সভাপতি নয়ন দেবীগঞ্জে মাদক ও স্মার্টফোন আসক্তি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী লাল কার্ড প্রদর্শন জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজনে ফাঁকা চেয়ার, চাষিরাই জানেন না কর্মসূচির খবর রংপুর মেডিকেলকে দালালমুক্ত করতে ৩০ দিনের রোডম্যাপ

গঙ্গাচড়ায় এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয়ে কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেম ও সাড়ে ১০ লাখ টাকা প্রতারণা, ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

রফিকুল ইসলাম সাবুল, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম), রংপুর
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়ে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং ধর্ষণের অভিযোগে লিয়ন মিয়া ওরফে সম্রাট হোসেন সামিম নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক উপজেলার সয়রাবাড়ী ফুলবাড়ীর চওড়া এলাকার সাফুল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে বুধবার গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিয়ন ও তার মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মুঠোফোনে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে লিয়নের পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন লিয়ন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তরুণীর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্থাপন করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, লিয়ন একটি অ্যাফিডেভিটের কপি এনে তরুণীকে তাতে স্বাক্ষর করতে বলেন। তিনি দাবি করেন যে তার কর্মস্থল থেকে বিয়ের অনুমতি এখনো দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি জানাজানি হলে তার চাকরি চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর কিছুদিন পর নিজের পদোন্নতির কথা বলে সাড়ে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে তরুণীর পরিবারের কাছে জানান লিয়ন। পদোন্নতি সম্পন্ন হলে বিয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের জানানো হবে—এমন আশ্বাসে তরুণীর পরিবার বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা লিয়নকে প্রদান করে। এ সময় লিয়নের মা-বাবাও তরুণীর বাড়িতে এসেছিলেন বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
তবে অর্থ হস্তান্তরের পর লিয়নের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে তরুণীর পরিবারের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তারা নিজস্ব উদ্যোগে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে লিয়ন আদৌ এনএসআইয়ের কোনো কর্মকর্তা নন।
এদিকে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে লিয়ন ওই তরুণীর বাড়িতে যান এবং তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তরুণীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা দ্রুত সেখানে গিয়ে লিয়নকে হাতেনাতে আটক করেন। উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। চিকিৎসা প্রদান শেষে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করে জানান, লিয়ন ইতিপূর্বেও বিভিন্ন স্থানে তাকে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে যেতেন এবং সেখানে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন।
তরুণীর বাবা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, লিয়ন নিজেকে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় তারা সরল বিশ্বাসে তাকে আস্থা জানিয়েছিলেন। মেয়েকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করবেন এমন প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেই তাকে বিভিন্ন সময়ে টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে তার আসল পরিচয় উন্মোচিত হলে তারা বুঝতে পারেন যে তারা একটি সুসংগঠিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় লিয়নের কাছ থেকে বিয়ের একটি অ্যাফিডেভিটের কপি এবং এনএসআইয়ের একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অ্যাফিডেভিটে ওই তরুণীকে লিয়নের স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কাগজটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং লিয়ন নিজেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করেছেন।
পুলিশের তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে লিয়ন বিবাহিত এবং তার ঘরে স্ত্রী রয়েছে। একই ধরনের ভুয়া পরিচয় ও কৌশলে তিনি ইতিপূর্বে আরও কয়েকজন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলেও প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর জানান, লিয়নকে আটকের পর তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অ্যাফিডেভিট ও এনএসআইয়ের পরিচয়পত্র প্রাথমিক তদন্তে ভুয়া বলে মনে হচ্ছে। তার পূর্ববর্তী বিয়ে এবং অন্যান্য প্রতারণার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় লিয়ন ও তার মা-বাবার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত লিয়নকে আদালতে সোপর্দ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় তার মা-বাবার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না তা গভীর তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


More News Of This Category