দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ জুঁই আক্তার নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ এই অভিযানে সর্বমোট ৪ হাজার ৬৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৭ আগস্ট সোমবার দিবাগত রাতে মাদকের একটি বড় চালান উদ্ধারের লক্ষ্যে বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ঢালাগ্রাম এলাকায় প্রথম অভিযান চালানো হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে মামুন ইসলামের স্ত্রী জুঁই আক্তারকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ৩৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জুঁই আক্তার স্বীকার করেন যে, পার্শ্ববর্তী সুজালপুর ইউনিয়নের বড় শীতলাই গ্রামে তার বাবার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান মজুদ রাখা আছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএসপি শাওন কুমার সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ টিম দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করে। সুজালপুর ইউনিয়নের বড় শীতলাই গ্রামে জুঁইয়ের বাবা আবুল হোসেনের বসতবাড়িতে চালানো এই রাতের অভিযানে আরও ৪ হাজার ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়।
সব মিলিয়ে দুই স্থানে সফল অভিযান পরিচালনা করে মোট ৪ হাজার ৬৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল বা টাপাল ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এই যৌথ অভিযানে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (চলতি দায়িত্ব) এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই দীনেশ, এএসআই শিবু, এএসআই হকিকুল, এএসআই দিবানাথ এবং নারী পুলিশ সেলিনাসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত জুঁই আক্তারসহ এই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। অপরাধ দমনে পুলিশের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও নিশ্চিত করা হয়।