কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার সীমান্তবর্তী এবং অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় দুটি পৃথক জেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থসহ চারজন কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩-এর আভিযানিক দল। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৫ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা ও ১৮৩ বোতল এসকাফ সিরাপ। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ৪ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। গতকাল রোববার র্যাব-১৩ রংপুর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায়। শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে র্যাব-১৩-এর একটি বিশেষ দল নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালাতারী গ্রামে মোস্তফা মিয়ার বাড়িতে আকস্মিক তল্লাশি চালায়। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে মোস্তফা মিয়ার ঘর থেকে ১৫ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা এবং ১৬২ বোতল নিষিদ্ধ এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এই অবৈধ মাদক মজুত রাখার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ২০ বছর বয়সী মোস্তাফিজুর রহমান এবং ৬০ বছর বয়সী জহির উদ্দিন। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য লাখ টাকার ওপরে বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রামের এই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি সফল অপারেশন চালানো হয় গাইবান্ধা জেলায়। র্যাব জানায়, গত ১১ জুলাই রাত পৌনে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের গাড়ানাটা গ্রামে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ২১ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করার পাশাপাশি মাদক বিক্রির বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নগদ ৪ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ৪২ বছর বয়সী মিলন মোল্লা এবং তার ৩৫ বছর বয়সী স্ত্রী লিপি বেগমকে। স্বামী-স্ত্রী মিলে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মাদকের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত চার মাদক কারবারি তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল থেকে মাদকের চালান সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে এই মাদক রংপুর বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরা বিক্রেতা ও সেবীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গোপনে তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল, যার ফলে যুবসমাজ মারাত্মক স্বাস্থ্য ও সামাজিক ঝুঁকির মুখে পড়ছিল।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। র্যাব বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধারকৃত মাদক ও নগদ অর্থসহ জব্দকৃত আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।