পঞ্চগড় জেলায় বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের অবর্ণনীয় কষ্টের মাঝে কিছুটা সান্ত্বনা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচটি পরিবারের সদস্যদের হাতে ২৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। রবিবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই অনুদান প্রদান করা হয়। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএ পঞ্চগড় সার্কেল যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিআরটিএ-র আর্থিক সহায়তা তহবিল ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে এই মানবিক ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে।
চেক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক এসএম ইমাম রাজী টুলু, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আলি আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক হিমাদ্রি ঘোটক এবং সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের স্বজনেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলায় গত পাঁচ মাসে বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন মানুষ প্রাণ হারান। হঠাত করেই প্রিয়জনকে হারিয়ে এই পরিবারগুলো তীব্র মানসিক ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে নিহতের স্বজনেরা বিআরটিএ অফিসে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিআরটিএ-র আর্থিক সহায়তা তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড দ্রুততার সাথে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে তা মঞ্জুর করে।
সহায়তা প্রাপ্তির তালিকায় থাকা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পাঁচটি পরিবারের মাঝে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২৫ লাখ টাকার চেক ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। চেক প্রাপ্ত নিহত পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে ছিলেন মো. আল আমিন, মো. আজাদ হোসেন, মো. আজাদ হোসেন, মোছা. সাজেদা আক্তার এবং রিক্তা রানী। জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন নিজে উপস্থিত থেকে অশ্রুসিক্ত এই স্বজনদের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেন। উল্লেখ্য যে, এর আগেও সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের স্বজনদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এক কোটি ৮৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন বলেন যে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং একটি প্রাণ চলে গেলে তা আর কখনো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবুও সরকার সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সব সময় সহানুভূতিশীল এবং তাদের কল্যাণে কাজ করে আসছে। পরিবারগুলোর এই চরম বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকা এবং খোঁজখবর নেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব। এই সামান্য আর্থিক সহযোগিতা যাতে অসহায় পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ জীবন পরিচালনায় এবং সাময়িক সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা হলেও সাহায্য করে, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার আগামীতেও যেকোনো সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।