• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কুড়িগ্রামে জেলা যুবশক্তির বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বাজেট ও সরকারি মিতব্যয়িতার তুলনামূলক চিত্রে তারেক রহমানের সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দেবীগঞ্জে দুই শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায় গ্রেপ্তার আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের ডাক দিয়ে পঞ্চগড়ে পরিবেশের জয়গান পঞ্চগড়ে কিডনি রোগীর অনুদানের চেকের তথ্য জানতে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ ডোমারে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণ: হাজার একর জমি অনাবাদির আশঙ্কা রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে কচাকাটায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ডোমারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত গংগাচড়ায় হেরোইন-ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পঞ্চগড় সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে এক বাংলাদেশি আটক, পাসপোর্ট আইনে মামলা

বাজেট ও সরকারি মিতব্যয়িতার তুলনামূলক চিত্রে তারেক রহমানের সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

রফিকুল ইসলাম রফিক, সিনিয়র রিপোর্টার ( পঞ্চগড় )
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

বাজেট পাশের সময় সাধারণত যে ধরনের বক্তব্য বিরোধীদলীয় নেতার কাছ থেকে আসার কথা, সেই একই দায়িত্বশীল বক্তব্য নিজের মুখে প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর এই অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কারণে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজেই নিজের আসন থেকে উঠে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি এক বিরল ও ইতিবাচক ঘটনা, যা বর্তমান তারেক রহমান সরকারের এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রকৃত জনবান্ধব চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে। পঞ্চগড়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

শনিবার দুপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল এবং অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থী, গরীব, দুঃস্থ ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মাঝে বিশেষ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি জেলা পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অতীতে যখনই দেশে কোনো বাজেট পাশ করা হতো, তখনই সাধারণ মানুষের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে যেত। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বাজেট পাশের পর সাধারণ মানুষের ওপর সেই ধরনের কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। বাজারের অন্তত ১০০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং একটি পণ্যের দামও এক টাকাও বাড়েনি। এটিই হলো সাধারণ মানুষের প্রতি তারেক রহমানের সরকারের আসল প্রতিশ্রুতি ও দক্ষতার প্রমাণ।

সরকারি অনুদান বিতরণের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা সরকারিভাবে যাদের অনুদান দিচ্ছি, তাদের কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখা যাবে না। দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত অর্থে যারা এই অনুদান পাওয়ার যোগ্য, তাদের কাছেই এই সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। ক্ষমতার সুবাদে এখন অনেকের অনেক ধরনের আত্মীয় বের হবে এবং অনেকে নানা দাবি নিয়ে আসবে, কিন্তু সেসব দাবির দিকে তাকানো যাবে না। বরং দলের যারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মী, তাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

নিজের জনপ্রতিনিধিত্বের দর্শন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি সংসদ সদস্য হয়েছি এবং আমি মনে করি আমি পঞ্চগড়ের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধি। একইভাবে আমি যখন মন্ত্রী হয়েছি, তখন আমি সারাদেশের ভোটারদের মন্ত্রী। অতএব আমাকে সবার প্রতিনিধি হয়েই কাজ করতে হবে এবং মানুষের ভালোবাসা নিয়ে টিকে থাকতে হবে। যদি আমরা তা করতে না পারি, তবে বিগত দিনের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো আমাদেরও একই করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সাবেক ও বর্তমান সরকারের মধ্যকার জীবনযাত্রার ব্যয়ের এক বড় পার্থক্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার প্রধান সাড়ে নয়শ টাকা খরচ করে দুপুরের খাবার খেতেন, যা ছিল জনসাধারণের টাকার অপচয়। অপরদিকে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র দেড়শ টাকার মধ্যে দুপুরের খাবার সম্পন্ন করেন। শুধু তিনি একাই নন, তার অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমরা মন্ত্রীরাও সেই একই দেড়শ টাকার সাধারণ খাবার খাই। দেশের শীর্ষ নেতা যদি নিজের জীবনযাত্রার মান এভাবে সাধারণ স্তরে নামিয়ে এনে ইতিবাচক পরিবর্তন করতে পারেন, তবে আমাদেরও তা অনুসরণ করা উচিত। তিনি সবাইকে নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করে দেশকে ভালোবাসার এবং সবাই মিলে একসঙ্গে নতুন দেশ গড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন, পুলিশ সুপার আবু সাইম, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী অঞ্জন কুমার। এছাড়াও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুসহ স্থানীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও উপহার সামগ্রী নিতে আসা সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জেলার প্রান্তিক ও অসহায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭৭টি সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১১৭টি বাই-সাইকেল এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ১১১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য বিপি মেশিনসহ সাধারণ নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি নিজে উপস্থিত থেকে সুবিধাভোগীদের হাতে এই উপহার সামগ্রী তুলে দেন।


More News Of This Category