• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কুড়িগ্রামে জেলা যুবশক্তির বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বাজেট ও সরকারি মিতব্যয়িতার তুলনামূলক চিত্রে তারেক রহমানের সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দেবীগঞ্জে দুই শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায় গ্রেপ্তার আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের ডাক দিয়ে পঞ্চগড়ে পরিবেশের জয়গান পঞ্চগড়ে কিডনি রোগীর অনুদানের চেকের তথ্য জানতে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ ডোমারে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণ: হাজার একর জমি অনাবাদির আশঙ্কা রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে কচাকাটায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ডোমারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত গংগাচড়ায় হেরোইন-ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পঞ্চগড় সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে এক বাংলাদেশি আটক, পাসপোর্ট আইনে মামলা

ডোমারে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণ: হাজার একর জমি অনাবাদির আশঙ্কা

আনিছুর রহমান মানিক, সিনিয়র রিপোর্টার। ডোমার (নীলফামারী)
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা এলাকায় একটি খালের পানি প্রবাহ কৃত্রিমভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কারণে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলার বোড়াগাড়ী ও জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই গুরুত্বপূর্ণ খালটির উজানে কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করায় এখন হাজার হাজার একর ফসলি জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্ষার এই ভরা মৌসুমে যেখানে কৃষকদের ব্যস্ত থাকার কথা ছিল মাঠ জুড়ে চাষাবাদে, সেখানে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে থমকে গেছে তাদের জীবন ও জীবিকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডোমার-চিলাহাটি সড়কের পাশ দিয়ে কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন হয়ে জোড়াবাড়ী এবং বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই প্রাকৃতিক খালটি এখন অনেকটাই বেদখল হয়ে পড়েছে। অথচ এই খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে সরকারিভাবে বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন থেকে জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ব্রীজ ও কালভার্ট তৈরি করা হয়েছিল। এই খালটির পানি প্রবাহিত হয়ে ডোমার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শালকী নদীতে গিয়ে মিলিত হয়। কিন্তু বর্তমানে কিছু মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে খালটির স্বাভাবিক গতিপথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে ছোট ছোট বাঁধ নির্মাণ করে নিজেদের জমি চাষাবাদ করছেন, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক কৃষিব্যবস্থার ওপর।

সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা গ্রামের খুলখুলি ব্রীজের প্রায় তিন শত ফিট উজানে। সেখানে ইট, বালু এবং সিমেন্টের কংক্রিট দিয়ে পানি প্রবাহের মূল জায়গাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে খালের উজানে থাকা কয়েক হাজার একর জমিতে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকার বাসিন্দা ডোমার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের সদস্য মাহবুব হোসেন খালের পাশ দিয়ে তার নিজের জমি ভরাট করে সেখানে একটি লটকনের বাগান তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, বাগান রক্ষার পাশাপাশি খালের পানি নিষ্কাশনের মূল প্রবাহটি কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে সেখানে মাছ ধরার স্থায়ী ফাঁদ বসিয়েছেন তিনি। এই ঢালাই ও ফাঁদের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পানি আর সামনের দিকে এগোতে পারছে না, যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ভরা বর্ষা চললেও এই জলাবদ্ধতার কারণে কোনো কৃষকই তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না।

এই সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ অনেক প্রান্তিক চাষী। বাকডোকরা গ্রামের বাসিন্দা মমিনুর ইসলাম নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে জানান যে, খালের পাশে তার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বিঘা জমি রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার জমিগুলোতে কোনো আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। উপায় না পেয়ে জলাবদ্ধতার হাত থেকে ফসল বাঁচাতে তিনি নিজের জমির চারদিকে ব্যক্তিগতভাবে বাঁধ নির্মাণ করে কোনোমতে চাষাবাদের চেষ্টা করছেন। একই এলাকার আরেক ভুক্তভোগী কৃষক বুলু ইসলাম ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, কৃত্রিমভাবে পানি প্রবাহ বন্ধ করার কারণে তার প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে পানি জমে থাকায় তিনি জমিতে কোনো চাষ দিতে পারছেন না। চাষাবাদের ক্ষতির পাশাপাশি তার ৪টি মাছের পুকুরও এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় ঢলের পানিতে পুকুরগুলো ভেসে গিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তার।

এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মাহবুব হোসেন মেম্বার এবং রেজাউলসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের খেয়ালখুশি মতো খালের বিভিন্ন অংশে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। এই প্রাকৃতিক জলাধারটি বন্ধ করার অধিকার কারও নেই উল্লেখ করে স্থানীয় ভুক্তভোগী জনপদ এখন চরম দিশেহারা। তারা তাদের ফসলি জমি রক্ষা এবং খালের স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই পুরো বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তম্বী জানান, বর্তমান সরকার খাল খনন ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আইন অমান্য করে এভাবে কেউ খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


More News Of This Category