পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি মোঃ রোকনুজ্জামান রোকন (৪২)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তিনি উপজেলার ভাউলাগঞ্জ তিস্তা পাড়া এলাকার বাসিন্দা মরহুম আবুল হাইয়ের ছেলে।
এর আগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে উপজেলা প্রশাসনের পেশকার সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাউলাগঞ্জ এলাকার মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল আরোহীদের ভিড় ও দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হচ্ছিল। অভিযোগ ছিল, অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফুয়েল কার্ড-ছাড়াই জ্বালানি নিচ্ছিলেন।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ কুমার বসাক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া থাকা মোটরসাইকেল চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে ভিড় আরও বাড়তে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুইটি মোটরসাইকেলকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হলে উপস্থিত কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি একত্রিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা চালায়।
হামলায় ইউএনওর দেহরক্ষী আনসার সদস্য তৈয়বুর রহমান গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ মোবাইল ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি ক্যামেরার সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি (অফিসার ইনচার্জ) সেলিম মালিক জানান, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।