পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি পেট্রোল পাম্পকে কেন্দ্র করে আকস্মিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয় এবং দায়িত্ব পালনরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ভাউলাগঞ্জ এলাকার মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি জানতে পেরে ভোর থেকেই ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তেল সরবরাহ কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য ওই ফিলিং স্টেশনে যান উপজেলা ইউএনও সবুজ কুমার বসাক। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই তিনি ফুয়েল কার্ড,
মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই-এমন চালকদের স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। এ সময় দুইজন মোটরসাইকেল চালকের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
জরিমানা কার্যকরের পরপরই লাইনে অপেক্ষমাণ অন্তত ৩০–৪০ জন মোটরসাইকেল চালক হট্টগোল শুরু করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কারোরই মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এ সময় তারা ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা আনসার সদস্যের দিকে তেড়ে আসে। পরিস্থিতি অবনতি হলে ইউএনওকে পরে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় আনসার সদস্য তৈয়বুর রহমানকে কিল-ঘুষি দিয়ে তার সঙ্গে থাকা অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
কিসের মামলা? ‘ব্যাটাদের ধর, ধর’ বলে হামলাকারীরা প্রশাসনের ওপর হামলা চালায়-এমন একটি ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রশাসনের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মালিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্পে সাময়িকভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওই পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ কুমার বসাকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।