পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।
রবিবার ২৬ এপ্রিল সকালে জানা যায়, উপজেলা ৩নং বেংহারী সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকশো মানুষ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে গিয়ে জবাবদিহিতা দাবি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা প্রধান শিক্ষককে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
স্থানীয় এক অভিভাবক দাবি করেন, ২০২৪ সালেও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন একটি ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল। তখন তিনি অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চেয়ে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচার না হলে তারা নিজেরাই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন এবং যাতে তিনি আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে না পারেন, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণের চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে অভিভাবককে জানালে, পরে অভিভাবক ও স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষুব্ধ জনতার উত্তাল উপস্থিতি হঠাৎ করেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে। চারপাশে উত্তেজিত কণ্ঠস্বর, হইচই আর ক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে প্রধান শিক্ষক নিজের কক্ষের ভেতরে দ্রুত আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাইরে থেকে ভেসে আসা জনতার ক্ষোভ ও চাপের শব্দে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
ভীত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় তিনি নিজের কক্ষের টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন, যেন সাময়িকভাবে হলেও নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন। তার চোখে মুখে স্পষ্ট আতঙ্ক, শরীর কাঁপছে অনিশ্চয়তা ও ভয়ের কারণে। পুরো ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশকে এক চরম অস্থিরতায় পরিণত করে, যেখানে শৃঙ্খলা ও শান্তির জায়গা দখল করে নেয় উদ্বেগ ও উত্তেজনা।
এ খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বোদা উপজেলা নির্বাহী আফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম ও বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা সহ পুলিশের একটি টিম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে বোদা থানায় নিয়ে আসা হয়।