গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক সাবেক সেনা সদস্যের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২১ জুন (২০২৬) সকালে কাশিমপুর থানাধীন তেঁতুলবাড়ী এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী ফারহানা সুলতানা লিপি বাদী হয়ে গত ২২ জুন কাশিমপুর থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-৩১/২১০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের (৩৫) নেতৃত্বে একদল লোক রামদা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক ফারহানা সুলতানা লিপির বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাদীর স্বামী, সাবেক সেনা সদস্য মাসুদ রানা শেখকে (৪৬) ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এতে তার মাথায় ৮টি সেলাই লাগে এবং রডের আঘাতে তার ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায়।
ভুক্তভোগীকে বাঁচাতে তার স্ত্রী, কন্যা নাতাশা (২৬) এবং ভাগ্নি শাপলা (২৩) এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নারীদের ওপর আক্রমণ করে, শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ভাগ্নি শাপলাকেও গুরুতর জখম করে। এমনকি, হামলাকারীদের একজন নাতাশার ৪ বছর বয়সী শিশু সন্তানকেও ঘরের বাইরে আছাড় দিয়ে গুরুতর আঘাত করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং বেশ কয়েকটি স্বর্ণের অলংকারসহ মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে ভুক্তভোগীর কন্যা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা ভবিষ্যতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত মাসুদ রানা শেখ এবং শাপলা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কাশিমপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বাদীর লিখিত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।