আই জামান চমক: রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, রাজনীতি হলো একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য কাজ করা। কিন্তু যখন সেই রাজনীতির অঙ্গনে শালীনতা ও শ্রদ্ধার অভাব দেখা যায়, তখন আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব মর্মাহত হই। সম্প্রতি বাশার মামার মতো একজন ব্যক্তিত্বকে আক্রমণ করে যে অশালীন স্লোগান দেওয়া হয়েছে, তা আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। বাশার মামা কোনো অন্যায়, অপরাধ অথবা অশোভন কিছু করতে পারেন—এটা আমি কোনোভাবেই বিশ্বাস করি না।
–
আমি মনে করি, রাজনৈতিক গ্রামার মেনে যদি সকলে রাজনীতি করে, তবেই রাজনৈতিক অঙ্গন সুন্দর ও শোভনীয় হবে। গ্রামার ছাড়া যেমন ভাষার কোনো মর্যাদা থাকে না, তেমনি সৌজন্য ছাড়া রাজনীতির কোনো মূল্য থাকে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পরিশীলিত বাক্য চয়নই হওয়া উচিত একজন প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীর বৈশিষ্ট্য।
–
আমার মনে আছে, আমার আব্বা তুলা মৌলভীর মৃত্যুর দিন, জানাজার নামাজের পূর্ব মুহূর্তে বাশার মামার তাত্ত্বিক পাণ্ডিত্য সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আজও আমার স্মৃতিতে অমলিন। একজন মানুষের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্বকে কোনোভাবেই কতিপয় আগ্রাসী ও অশালীন বাক্য চয়ন করে হেয় করা যায় না।
–
উল্টো আমি দেখতে পাচ্ছি, যারা এই ধরনের নিম্নমানের আক্রমণ করছে, তারা আসলে আবুল বাশার বসুনিয়ার জনপ্রিয়তাকেই আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ সাধারণ মানুষ সবসময় প্রজ্ঞা ও সংযমকে সম্মান করে, আর অশালীনতাকে বর্জন করে। এই ব্যক্তিগত আক্রমণগুলি তাদের নিজেদের রাজনৈতিক দীনতাকেই প্রকাশ করছে।
–
আমি আশা করি, আমাদের প্রিয় শহর দেবীগঞ্জ এই রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বেরিয়ে আসবে এবং ভবিষ্যতে সকল রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষেরা সৌহার্দের রাজনীতির পথে এগুবে। সকলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ফিরে আসুক—এইটাই আমার একান্ত প্রার্থনা।
–
-লেখক: কবি, সাংবাদিক, আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী